আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে তিন মাসের বেশি ইন্টারনেট বন্ধ

পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে তিন মাসের বেশি ইন্টারনেট বন্ধ
পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে তিন মাসের বেশি ইন্টারনেট বন্ধ
পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে মোবাইল ডেটা ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবা টানা ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে, যা দৈনন্দিন জীবন ও অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে।

পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে মোবাইল ডেটা এবং ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবা টানা ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। ইন্টারনেট নজরদারি সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, গত ৫ জুন থেকে অঞ্চলটিতে আংশিক ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। এই দীর্ঘদিনের ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

চলমান অস্থিরতার মধ্যেই অঞ্চলটিতে তিন ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ ধাপের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছিল গত ১০ আগস্ট। এরই মধ্যে নতুন সরকার গঠিত হলেও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের প্রভাব এখনও অব্যাহত আছে।

ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় স্থানীয়রা অনলাইন ব্যাংকিং অ্যাপ ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে পারছেন না। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রমেও বড় ধরনের অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। ইন্টারনেট-নির্ভর বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় প্রশাসনকে কয়েকটি প্রবেশিকা পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়েছে।

ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশই পুরো কাশ্মীরের ওপর সার্বভৌমত্বের দাবি করে। তবে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত অংশে একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত শাসনব্যবস্থা চালু রয়েছে। এর আওতায় ৪৫ আসনের আইনসভায় ভারতে বসবাসরত কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষিত আছে। এই সংরক্ষিত আসনগুলো বাতিলের দাবিতে ‘জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’ (জেকেজেএএসি) আন্দোলন শুরু করে।

পরে গত ৫ জুন সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর শুরু হওয়া সহিংস সংঘাতে সাতজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ অর্ধশতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে। নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে বিক্ষোভে উত্তাল কয়েকটি এলাকায় ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়েছিল। পরে বাকি আসনগুলোর ফলাফলের ভিত্তিতে নতুন আঞ্চলিক সরকার গঠন করা হয়।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...