সারাদেশ

ফেনীতে বাস উল্টে কাস্টমস কর্মকর্তা নিহত, আহত ১০

ফেনীতে বাস উল্টে কাস্টমস কর্মকর্তা নিহত, আহত ১০
ফেনীতে বাস উল্টে কাস্টমস কর্মকর্তা নিহত, আহত ১০
ফেনীতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস উল্টে মো. আবদুল আলিম (৩৫) নামের এক কাস্টমস কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।

ফেনীতে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উল্টে যায়। এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মো. আবদুল আলিম (৩৫) নামের এক কাস্টমস কর্মকর্তা ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। গতকাল রোববার রাতে ফেনী সদরের লালপোল এলাকায় স্টার লাইন ফিলিং স্টেশনের পাশে এই ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ১০ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।

নিহত মো. আবদুল আলিম সিলেট কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট অফিসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার করেরহাট এলাকায়। তবে তার পরিবার চট্টগ্রামের বারইয়ারহাট পৌরসভা এলাকায় বসবাস করে। কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনাটি গতকাল রোববার রাত আটটার দিকে সংঘটিত হয়। বাসটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে দ্রুত গতিতে চলছিলো। লালপুলস্থ স্টার লাইন ফিলিং স্টেশনের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

সামনে থাকা একটি ট্রাক মহাসড়কে হঠাৎ করে ব্রেক কষে। এর ফলে পেছনে থাকা যাত্রীবাহী শ্যামলী পরিবহনের বাসটি (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-১৪২৫) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। বাসটি দ্রুত গতিতে থাকার কারণে চালক পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেননি।

নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর বাসটি সড়কের ডান পাশের রোড ডিভাইডারের ওপর উঠে যায়। এরপর সেটি উল্টে গিয়ে দুমড়ে মুচড়ে যায়। এতে বাসের ভেতরে থাকা বেশ কয়েকজন যাত্রী মারাত্মকভাবে আহত হন।

দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির এক যাত্রী রবিউল হক জানান, তাদের বাসটির গতি তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বেশি ছিল। এই উচ্চ গতির কারণেই সামনে থাকা ট্রাকটি হঠাৎ ব্রেক করায় বাসের চালক তার গাড়ি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি।

জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মহিপাল হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা স্থানীয়দের সহায়তায় তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে নিহত কাস্টমস কর্মকর্তা আলিমের লাশ উদ্ধার করা হয়।

আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি আহত যাত্রীরা স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করে বাড়ি ফিরে গেছেন। আহতদের কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনার পর উল্টে যাওয়া বাসটির কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে যান চলাচল সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়কের ওই অংশে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। দূরপাল্লার অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে।

তবে মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। মহিপাল হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক কবির হোসেন জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটিকে দুটি রেকার দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টার দীর্ঘ চেষ্টায় বাসটি মহাসড়ক থেকে অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে এবং এরপর যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

হাইওয়ে পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিকে ইতোমধ্যে থানা হেফাজতে নিয়েছে। উপপরিদর্শক কবির হোসেন আরও জানান, এই দুর্ঘটনার জন্য প্রাথমিকভাবে দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করা ট্রাকটি আটকের চেষ্টা চলছে। ট্রাক চালক ও তার সহকারীর খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

নিহত মো. আবদুল আলিমের পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। পরিবারের সেই আবেদনের ভিত্তিতে নিহতের লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...