রাজনীতিমুক্তিযোদ্ধাদের স্বচ্ছ তালিকা ও ভাতা বৃদ্ধির দাবি
মুক্তিযোদ্ধাদের স্বচ্ছ তালিকা ও ভাতা বৃদ্ধির দাবি
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের স্বচ্ছ তালিকা প্রণয়ন এবং সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি বিদ্যমান বৈষম্যমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি স্বচ্ছ তালিকা প্রণয়ন এবং সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) সংগঠনটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোসলেম উদ্দিন এবং সেক্রেটারি জেনারেল বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: তাজিরুল ইসলাম এক যৌথ বিবৃতিতে এই দাবি উত্থাপন করেন।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, সম্প্রতি জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতে প্রকাশিত মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন পে-স্কেল তাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এই পে-স্কেলে খেতাবপ্রাপ্ত ও আহত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানো হলেও সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়নি। এর ফলে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধারা মর্মাহত ও হতবাক হয়েছেন।
তারা সাধারণ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সরকারের এমন বৈষম্যমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, স্বাধীনতার অব্যাবহিত পরে আওয়ামী লীগ সরকার নিজেদের সমর্থনকারী সুবিধাবাদী মুক্তিযোদ্ধা এবং শত শত অমুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা লীগ’ নামে একটি সংগঠন তৈরি করে।
এই সংগঠনটিকে আওয়ামী লীগ দীর্ঘকাল ধরে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ করা হয়। বিগত সরকার শত শত অমুক্তিযোদ্ধা ও সচ্ছল আওয়ামী দোসরদের মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে তাদের নামে ভাতা বরাদ্দ দিয়ে নজিরবিহীন জালিয়াতি করেছে।
এইসব ঘটনার কারণে স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরেও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করা যায়নি এবং তাদের জাতীয় সম্পদে রূপান্তর সম্ভব হয়নি বলে নেতৃবৃন্দ জানান। তারা এটিকে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্য লজ্জার বিষয় বলে উল্লেখ করেন।
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ বর্তমান সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ সৃষ্ট অমুক্তিযোদ্ধাদের সংমিশ্রণে তৈরি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকা বাতিল করা হোক। একইসাথে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি স্বচ্ছ ও সর্বজনগ্রাহ্য তালিকা প্রণয়ন করা হোক।
তারা সরকারের কাছে আরও দাবি জানান, বিগত সরকারের আমলে অমুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে আশ্রয় বণ্টনের বিষয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হোক। এর মাধ্যমে দলীয়করণের মাধ্যমে আশ্রয় বণ্টনের অনিয়ম ও লুটপাটের প্রকৃত চিত্র জাতির সামনে উন্মোচিত হবে।
নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, সরকার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের স্বচ্ছ তালিকা প্রণয়নপূর্বক সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জোর দাবি পূরণ করবে। তারা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য একটি ইনসাফপূর্ণ পে-স্কেল তৈরি ও তা বাস্তবায়ন করে তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে বলে আশা করেন।
মতামত (0)