রাজনীতিনারী সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে পর্দার আহ্বান
নারী সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে পর্দার আহ্বান
ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছেন, নারী সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা নেই, তবে ইসলামপন্থি আয়োজনে তাদের পর্দা করে আসা উচিত।
ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম মন্তব্য করেছেন যে, সংবাদ সংগ্রহে নারী সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা নেই। তবে, ইসলামী আন্দোলনের দলীয় অনুষ্ঠান অথবা ইসলামপন্থি কোনো আয়োজনে সংবাদ সংগ্রহের জন্য এলে তাদের পর্দা করে আসা উচিত। গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাজধানীর পুরানা পল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই মন্তব্য করেন।
তার এই মন্তব্যে সংবাদ সংগ্রহে নারী সাংবাদিকদের পোশাক এবং পেশাগত স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে নারী সংবাদকর্মীরা সামনে বসবেন নাকি পেছনে বসবেন — এমন একটি প্রশ্নের সূত্র ধরে ফয়জুল করীম ‘পর্দা করার’ বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, "আমার কথা হইল, আমার কোনো বোন যদি আসে, শরিয়ত সম্মতভাবে আসবে। আমরা সেটাকে বাধা দিচ্ছি না।"
ফয়জুল করীম আরও উল্লেখ করেন, "যারা শরিয়তকে মানেন, আমার বোনটারও উচিত।" তিনি পুনরায় স্পষ্ট করেন, নারী সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে তাদের কোনো বাধা নেই, তবে ইসলামী দলীয় বা ইসলামপন্থি আয়োজনে তাদের পর্দা করে আসা বাঞ্ছনীয়।
এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হয় যে, দলটির নেতা ও মহাসচিব নারীদের সঙ্গে টকশোতে অংশ নেন। এই অভিযোগের জবাবে ফয়জুল করীম বলেন, "না, না, এটা ঠিক না। এ তথ্যটাও ঠিক না; মহাসচিব করেন নাই। একটা করছিল; আমরা বাধা দিয়েছি।"
একই সংবাদ সম্মেলনে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম জাতীয় সংসদে পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি অবিলম্বে এই আইন বাতিল করার দাবি জানান। তিনি বলেন, মুসলিম হিসেবে শরিয়া আইন মানার সুযোগ তৈরির বদলে শরিয়া আইনকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা সমর্থনযোগ্য নয়।
ফয়জুল করীম আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সমস্যা সমাধানের নামে কোনো অবস্থাতেই শরিয়া অমান্য করা যাবে না। তিনি উল্লেখ করেন, সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে কোরআনে বর্ণিত ইসলামের অকাট্য একটি বিধানে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, সরকার এমন কোনো আইন করতে পারে না যা নাগরিকের ধর্ম পালনে বাধা সৃষ্টি করে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারও কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন করবে না বলে বারবার অঙ্গীকার করেছে। কিন্তু সরকারের ছয় মাস যেতে না যেতেই সরকার শরিয়াবিরোধী আইন পাস করেছে। সম্পত্তি হস্তান্তরের পদ্ধতি ইসলামি শরিয়ায় বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছে বলে তিনি জানান।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ উত্তরাধিকার আইনকে যত বিস্তৃতভাবে বর্ণনা করেছেন, তা অন্য কোনো বিধানের ক্ষেত্রে করেননি বলে ফয়জুল করীম উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সম্ভাব্য সব প্রকার ও পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে, যেখানে পরিবারের প্রথম স্তর (সন্তান ও তৎসম্পর্কিত), দ্বিতীয় স্তর (বাবা-মা, ভাই-বোন ও তৎসম্পর্কিত), তৃতীয় স্তর (দাদা-চাচা ও তৎসম্পর্কিত)-সহ সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ফয়জুল করীম বলেন, শরিয়াকে অমান্য করে হেবার বিধানে পরিবর্তন করা যাবে না। এই অধিকার ইসলাম কাউকে দেয়নি, বরং সর্বত্র শরিয়া মান্য করার মানসিকতা রাখতে হবে। সরকার বলছে, হেবা সংক্রান্ত আইন বহাল থাকবে, তবে এই সংশোধনীর মাধ্যমে দান বা গিফটের আরেকটি পদ্ধতি তৈরি করা হয়েছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, একেকটি মুসলিম দেশে শত বছর ধরে প্রচলিত একটি শরিয়া সমর্থিত আইনকে বাইপাস করার সুযোগ রাষ্ট্র কেন তৈরি করবে? মুসলিম হিসেবে শরিয়া আইন মানার সুযোগ তৈরির বদলে শরিয়া আইনকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ আমরা তৈরি করতে দিতে পারি না বলে তিনি জোর দেন।
মতামত (0)