জাতীয়

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতেই সম্ভব বিদ্যুৎ ঘাটতি নিরসন: বিইআরসি চেয়ারম্যান

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতেই সম্ভব বিদ্যুৎ ঘাটতি নিরসন: বিইআরসি চেয়ারম্যান
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতেই সম্ভব বিদ্যুৎ ঘাটতি নিরসন: বিইআরসি চেয়ারম্যান
বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেছেন, সরকারের নীতি সহায়তা পেলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন করে দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটানো সম্ভব। তিনি কুইক রেন্টাল দুর্নীতির তদন্তেরও দাবি জানান।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেছেন, দেশের চলমান জ্বালানি সংকট দ্রুত নিরসনের সম্ভাবনা নেই। তবে সরকারের নীতি সহায়তা অব্যাহত থাকলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন করে এই ঘাটতি মেটানো সম্ভব। এর মাধ্যমে দেশের জ্বালানি সংকট পুরোপুরি কাটানো যেতে পারে।

গত ৪ সেপ্টেম্বর FDC-তে 'জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ' শীর্ষক একটি ছায়া সংসদ অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির কো-অর্ডিনেটর মো. আবুল বাশারের পাঠানো এক বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিইআরসি চেয়ারম্যান কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, বিগত সময়ে একটি সরকার কুইক রেন্টালের নামে কিছু ব্যক্তিকে সুবিধা দিয়ে অনিয়ম করেছিলো। কুইক রেন্টালের মেয়াদ তিন বছর হওয়ার কথা থাকলেও, বিনিয়োগ পুনরুদ্ধার হয়ে যাওয়ার পরেও নবায়নের সময় প্রায় পূর্বের মূল্যেই বিদ্যুৎ কেনা হয়েছিলো, যা শুধু অপারেশনাল খরচের ভিত্তিতে হওয়া উচিত ছিলো না।

জালাল আহমেদ মন্তব্য করেন, কুইক রেন্টালের দুর্নীতির অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তিনি এই বিষয়ে একটি সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত বলে মনে করেন।

তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে উৎসাহ দিতে সরকারের নীতি সহায়তার ওপর জোর দেন। চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা এবং সুষম সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকসহ অনেকেই নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে আগ্রহী হবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে মিশ্র জ্বালানি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ অতীতের জ্বালানি নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা উপেক্ষা করে ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থে আমদানি নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছিলো। কায়েমি স্বার্থে উৎপাদনমুখী বিনিয়োগের পরিবর্তে কমিশনের লোভে এলএনজি আমদানির দিকে ঝুঁকে পড়েছিল।

কিরণ আরও বলেন, বিগত শাসনামলের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বর্তমানে জ্বালানি সংকটে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তিনি দ্রুত গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান যাতে দেশের শিল্প কারখানাগুলো টিকে থাকতে পারে।

হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ সতর্ক করেন, জ্বালানি সমস্যার সমাধান না হলে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং রপ্তানি আয় কমবে। এছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে, পরিবহন খরচ বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে বেকার সমস্যা বাড়বে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...