জাতীয়নবম পে-স্কেল অনুমোদন, সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা
নবম পে-স্কেল অনুমোদন, সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা
মন্ত্রিসভা নবম পে-স্কেল অনুমোদন করেছে, যা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। এতে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম পে-স্কেলের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আজ সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন বেতন স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।
নতুন বেতন স্কেলে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। এতে ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১ম গ্রেডে সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে।
সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতনস্কেল অনুমোদন করা হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ বেতন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তাও এর পেছনে কাজ করেছে। নতুন কাঠামোতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত বিদ্যমান ১:১.৯৪৫ থেকে কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে।
নবম পে-স্কেলে ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ বা ওয়ান র্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন (ওআরওপি) ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এর বিপুল আর্থিক সংশ্লেষ এবং অসামরিক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের আগের অবসরগ্রহণকারীদের তথ্য না থাকায় এটি একবারে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ওআরওপি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর পরিবর্তে বর্তমানে অবসরভোগী পেনশনধারীদের নিট পেনশন স্ল্যাবভিত্তিক উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হবে। মাসিক ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন ১০০ শতাংশ বাড়বে। ৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।
২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ৬৫ শতাংশ পেনশন বাড়বে। ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন ৫৫ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে তুলনামূলক কম পেনশন পাওয়া দীর্ঘদিন আগে অবসরে যাওয়া ব্যক্তিরা পেনশন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বেশি সুবিধা পাবেন।
সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য প্রথমবারের মতো ‘প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা’ চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রতি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা করে এই ভাতা দেওয়া হবে। ইন্টারনেট ও ডিজিটাল যোগাযোগের ব্যয় বিবেচনায় মোবাইল ভাতার আওতা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে শুধু পঞ্চম গ্রেডের কর্মচারীরা মোবাইল ভাতা পেলেও নতুন বেতনস্কেল অনুযায়ী সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারী এই সুবিধার আওতায় আসবেন।
নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন। এ জন্য সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক আর্থিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। মিডিয়াম টার্ম বাজেট ফ্রেমওয়ার্কের (এমটিবিএফ) আওতায় সংশ্লিষ্ট অর্থবছরগুলোর বাজেটে এই অর্থের সংস্থান রাখা হয়েছে।
নতুন জাতীয় বেতনস্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ‘যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী ২০২৬’ অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস বেতনস্কেল অনুমোদন করা হবে।
জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর মতো জুডিশিয়াল সার্ভিস বেতনস্কেলও ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে। নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নে অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন, আদেশ ও নির্দেশনা জারি করবে। এসব নির্দেশনায় বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি, বিভিন্ন ভাতা, পেনশন এবং অবসর-পরবর্তী অন্যান্য সুবিধার বিস্তারিত বিধান উল্লেখ থাকবে।
মতামত (0)