নেপাল ও তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা প্রবল পানির স্রোতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। এই আকস্মিক বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে এই ভয়াবহ বন্যার কারণ হিসেবে একটি বিশেষ পরিস্থিতিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই এলাকায় ভূমিকম্পের পর লেন্দে খোলা নদীর ওপর থাকা একটি বড় হিমবাহ বা বরফের স্তূপ ধসে পড়েছিল। এই ধসের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।
নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সাময়িকভাবে একটি প্রাকৃতিক বাঁধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেখানে বিপুল পরিমাণ পানি এবং বরফের স্তূপ জমা হয়। পরে জমে থাকা সেই পানি ও বরফের স্তূপ হঠাৎ করে ভেঙে নিচের দিকে নেমে আসে। এর ফলেই আকস্মিক ও বিধ্বংসী এই বন্যার সৃষ্টি হয়।
প্রবল স্রোতে নেপাল ও তিব্বতের সংযোগকারী সড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই বন্যায় অসংখ্য সেতু, বসতবাড়ি এবং বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বহু বিদেশি পর্যটক ও শ্রমিক এই ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজদের মধ্যে শতাধিক ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া এবং মালয়েশিয়ার বেশ কয়েকজন নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।



মতামত (0)