রাজনীতিনির্বাচনে দল বদল করে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধের প্রস্তাব
নির্বাচনে দল বদল করে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধের প্রস্তাব
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে দল বদল করে মনোনয়ন পাওয়ার সুযোগ বন্ধে তিন বছর সদস্যপদ থাকার বাধ্যবাধকতার প্রস্তাব করেছে।
জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তন আনার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন। এই নতুন নীতি অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেতে চান, তবে তাকে ওই দলের অন্তত তিন বছর ধরে সদস্য থাকতে হবে। একইসাথে, প্রার্থীর মনোনয়ন নিশ্চিত করার জন্য তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সুপারিশও বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
কমিশনের এই প্রস্তাবনার মূল লক্ষ্য হলো, এক দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে অন্য দলে যোগ দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধ করা। এর মাধ্যমে নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নকে কেন্দ্র করে যে টাকার খেলা বা অর্থের লেনদেন হয়, সেটিও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নির্বাচন এলেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে ভাঙাগড়ার যে চর্চা শুরু হয়, তা বন্ধ করাই এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এই ‘দল ভাঙাগড়ার খেলা’ প্রায়শই টাকার বিনিময়ে সংঘটিত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় রাজনীতিকদের পাশাপাশি সরকারি আমলা এবং গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারাও জড়িত থাকেন বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। সাম্প্রতিক ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এমন ঘটনা অনেকটা ‘ওপেন সিক্রেট’ ছিল বলে কমিশন সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন।
যেমন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের ঠিক আগ মুহূর্তে বিএনপি থেকে হঠাৎ আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে ঝালকাঠী-১ আসনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করেন শাহজাহান ওমর বীর উত্তম। তিনি ওই নির্বাচনে জয়লাভ করলেও বর্তমানে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন। নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্যরা এই ধরনের অসাধু চর্চা পুরোপুরি বন্ধ করার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন।
এই গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও) এর ১২ ধারায় প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার সুপারিশ করার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। এই সংশোধনীগুলো নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি নির্বাচন ব্যবস্থায় একটি মৌলিক পরিবর্তন আনবে।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার এ বিষয়ে জানান, কমিশন অনেকগুলো বিষয় নিয়ে সংস্কারের জন্য সুপারিশ করার লক্ষ্যে গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করছে। তবে এখনো কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। অংশীজনদের সঙ্গে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনার পরই সকল প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হবে বলে তিনি জানান।
ড. মজুমদার আরও বলেন, প্রার্থী হতে দলের তিন বছর সদস্যপদ থাকা, ‘না’ ভোটের বিধান ফিরিয়ে আনা এবং প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়ার মতো বিষয়গুলো কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিভিন্ন অংশীজনদের সঙ্গে তাদের চলমান সংলাপে যেসব মতামত উঠে আসছে, সেগুলোর ভিত্তিতেই সুপারিশগুলো চূড়ান্ত করা হবে এবং কমিশনের নিজস্ব কোনো পূর্বনির্ধারিত এজেন্ডা নেই। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে এই নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন গঠন করে।
মতামত (0)