বিনোদনঅভিনেতা রাজপাল যাদবের পৈতৃক সম্পত্তি নিলামে, অতীতের ঋণের জেরে নতুন সংকট
অভিনেতা রাজপাল যাদবের পৈতৃক সম্পত্তি নিলামে, অতীতের ঋণের জেরে নতুন সংকট
অভিনেতা রাজপাল যাদবের উত্তর প্রদেশের পৈতৃক সম্পত্তি নিলামে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে একটি ব্যাংক। ২০১৬ সালের একটি ঋণের জেরে ১৬ কোটি টাকার বেশি বকেয়া দাবি করা হয়েছে।
অভিনেতা রাজপাল যাদবের উত্তর প্রদেশের শাহজাহানপুরের পৈতৃক সম্পত্তি নিলামে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে একটি ব্যাংক। সম্প্রতি প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইন্ডিয়া তার কুন্দ্রা গ্রামের পৈতৃক বাড়িতে এ সংক্রান্ত নোটিশ টাঙিয়েছে। ব্যাংকের দাবি অনুযায়ী, বকেয়ার পরিমাণ ১৬ কোটি ৬১ লাখ রুপির বেশি।
ঋণের নথিতে রাজপাল যাদবের স্ত্রী রাধা যাদব এবং মা গোদাবরী দেবীর নামও উল্লেখ রয়েছে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অনলাইনে এই সম্পত্তি নিলামের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ঘটনাটি তার ব্যক্তিজীবনের একের পর এক কঠিন অধ্যায়ের সর্বশেষ সংযোজন।
২০১০ সালে রাজপাল যাদব নিজের পরিচালনায় ‘আতা পাতা লাপাতা’ নামে একটি সিনেমা নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এই ছবিটির জন্য তিনি দিল্লিভিত্তিক মুরলি প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে পাঁচ কোটি রুপি ঋণ নিয়েছিলেন। ২০১২ সালে ছবিটি মুক্তি পেলেও বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি, যা থেকে আর্থিক সংকট শুরু হয়।
ঋণ পরিশোধ নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে পাওনাদার প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া একাধিক চেক বাউন্স করে। এই বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং বছরের পর বছর ধরে মামলা, অর্থ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি ও সময় চাওয়ার মধ্য দিয়ে চলে। যে সিনেমাটি ছিল তার স্বপ্ন, সেটিই তার জীবনের দীর্ঘতম দুঃস্বপ্নগুলোর একটি হয়ে ওঠে।
ঋণসংক্রান্ত মামলায় ২০১৮ সালে রাজপাল যাদবকে তিন মাস কারাগারে থাকতে হয়েছিল। তিনি পরে এই জেলজীবন নিয়ে কথা বলেছেন। তার দাবি, কারাগারে থাকার সময়ও তিনি নিজেকে গুটিয়ে নেননি, বরং বন্দীদের সঙ্গে মিশেছেন এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন।
পর্দায় তাকে দেখলেই দর্শক হাসেন—বলিউডে প্রায় তিন দশকের কর্মজীবনে তিনি এমন এক পরিচিতি তৈরি করেছেন। কখনো তার মুখভঙ্গি, কখনো সংলাপ বলার ধরন, আবার কখনো উদ্ভট পরিস্থিতিতে তার অসহায় উপস্থিতি কোটি দর্শককে আনন্দ দিয়েছে। তবে পর্দার হাসির এই মানুষটির ব্যক্তিগত জীবন মোটেও হাসির ছিল না।
১৯৭১ সালের ১৬ মার্চ উত্তর প্রদেশের শাহজাহানপুরের কুন্দ্রায় রাজপাল যাদবের জন্ম। অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ তাকে দিল্লির ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে অভিনয়ের পাঠ নিয়ে শুরুতে টেলিভিশনে কাজ করেন এবং পরে সিনেমায় পা রাখেন।
ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তিনি কৌতুক অভিনেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন না। রাম গোপাল ভার্মার ছবিতে নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করে তিনি নজর কাড়েন। এরপর ধীরে ধীরে কমেডিতে নিজের একটি স্বতন্ত্র জায়গা তৈরি করেন।
‘মুঝসে শাদি করোগি’, ‘চুপ চুপ কে’, ‘মালামাল উইকলি’, ‘ফির হেরা ফেরি’, ‘ঢোল’ এবং ‘ভুল ভুলাইয়া’সহ অসংখ্য ছবিতে তিনি ছোট-বড় চরিত্রকে নিজের অভিনয়গুণে স্মরণীয় করে তুলেছেন। বড় তারকাদের পাশে থেকেও তিনি বহুবার দৃশ্যে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন।
কিন্তু এই সাফল্যে পৌঁছানোর অনেক আগেই তার জীবনে বড় বিপর্যয় নেমে এসেছিল। মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি তার প্রথম স্ত্রীকে হারান। প্রথম সন্তানের জন্মের সময়ই তার স্ত্রী মারা যান।
রাজপাল এক সাক্ষাৎকারে তার জীবনের সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে জানান, পরদিন তার স্ত্রীকে দেখতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার বদলে তাকে স্ত্রীর মরদেহ কাঁধে নিয়ে শ্মশানে যেতে হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, “আমার প্রথম স্ত্রী বাচ্চা প্রসব করতে গিয়ে মারা যান। আমার পরের দিন ওকে দেখতে যাওয়ার কথা ছিল। আর সেদিন আমি ওর লাশ কাঁধে নিয়ে শ্মশানে যাই।”
প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর সদ্যোজাত মেয়েকে বড় করার দায়িত্ব নেয় তার পরিবার। তার মা ও শ্যালিকার অবদানের কথা তিনি বিভিন্ন সময়ে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছেন। জীবনের এত বড় আঘাতের পরও তিনি থেমে থাকেননি এবং অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে গেছেন।
২০০৩ সালে রাজপাল যাদব রাধা যাদবকে বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রীকে তিনি তার জীবনের অন্যতম বড় শক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রাধা যাদব রাজপালের প্রথম পক্ষের মেয়েকেও নিজের সন্তানের মতোই গ্রহণ করেন।
এক সাক্ষাৎকারে রাজপাল তার স্ত্রীকে নিয়ে বলেছিলেন, “আমার গুরুর পর আমার মা–বাবা, আর তারপর ও আমাকে সবচেয়ে বেশি সমর্থন করেছে। ১০০ শতাংশ।” ব্যক্তিজীবন নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তার পেশাজীবনেও দ্রুত উন্নতি হচ্ছিল। বলিউডে তিনি কমেডির পরিচিত মুখ হয়ে উঠছিলেন।
মতামত (0)