অভিনেত্রী আকাঙ্ক্ষা রঞ্জন কাপুরের জীবন বর্তমানে এক বিশেষ অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তার অভিনীত অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘গ্রাম চিকিৎসালয়’-এর দ্বিতীয় মৌসুম দর্শকের ভালোবাসা কুড়াচ্ছে। এই সময়েই চলচ্চিত্র পরিচালক শরণ শর্মার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তিনি। তবে সাক্ষাৎকারের আগে অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর পক্ষ থেকে তার বিয়ে নিয়ে কোনো প্রশ্ন না করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
মুম্বাইয়ের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আলাপচারিতায় আকাঙ্ক্ষা নতুন মৌসুমের সাফল্য, অভিনয়জীবনের দীর্ঘ সংগ্রাম, 'ইনসাইডার-আউটসাইডার' বিতর্ক এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন, প্রথম মৌসুমের ব্যাপক জনপ্রিয়তাই দ্বিতীয় মৌসুমের পথ সুগম করেছে। দর্শক আগেই চরিত্রগুলোর সঙ্গে একটি আবেগের সম্পর্ক তৈরি করে ফেলেছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আকাঙ্ক্ষা জানান, প্রথম মৌসুম নিয়ে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া লেখকেরা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করেন, সেই অভিজ্ঞতার প্রতিফলন দ্বিতীয় মৌসুমে দেখা গেছে। সিরিজটির সাফল্যে তিনি বিস্মিত নন; শুরু থেকেই গল্পের ওপর তার পূর্ণ আস্থা ছিল। চিত্রনাট্য পড়ার পরই তার মনে হয়েছিল, এটি দর্শকের কাছে পৌঁছাবে।
টিভিএফের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করাও তার বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছিল। আকাঙ্ক্ষা বলেন, "আমি যখনই কোনো কাজ করি, বিশ্বাস নিয়েই করি। তা না হলে সেই কাজের জন্য স্বাক্ষর করি না।" তিনি আরও যোগ করেন, শুটিংয়ের সময় পুরো ইউনিটের নিষ্ঠা দেখে তার মনে হয়েছিল, ভালো কিছু তৈরি হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত দর্শকের রায়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বলিউডে 'ইনসাইডার' ও 'আউটসাইডার' বিতর্ক নিয়ে আকাঙ্ক্ষা খুব একটা মাথা ঘামান না। তার মতে, জন্মপরিচয়ের চেয়ে একজন শিল্পীর অধ্যবসায় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, "মাত্র এক শতাংশ অভিনেতার জন্য হয়তো পথটা সহজ হয়। বাকি ৯৯ শতাংশকেই অডিশন দিতে হয়, প্রত্যাখ্যাত হতে হয়, আবার নতুন করে শুরু করতে হয়।"
নিজের সংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে আকাঙ্ক্ষা জানান, ১৯ বছর বয়সে কলেজে পড়ার সময় থেকেই তিনি অডিশন দেওয়া শুরু করেছিলেন। ২০১৩ সালে শুরু হওয়া সেই পথচলায় ২০১৯ সালের ছবি ‘গিলটি’ ছিল তার প্রথম বড় সুযোগ। তিনি সাত বছর ধরে শুধু অডিশনই দিয়ে গেছেন বলে উল্লেখ করেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি পরিবারের ওপর নির্ভর না করে নিজের খরচ নিজেই চালিয়েছেন।



মতামত (0)