খেলাধুলা

পাকিস্তান ক্রিকেটে পাইকারি পরিবর্তনের সমালোচনা করলেন মিসবাহ

পাকিস্তান ক্রিকেটে পাইকারি পরিবর্তনের সমালোচনা করলেন মিসবাহ
পাকিস্তান ক্রিকেটে পাইকারি পরিবর্তনের সমালোচনা করলেন মিসবাহ
ইংল্যান্ড সিরিজের মাঝপথে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের নয়জনকে দল থেকে সরানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন সাবেক অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক। তিনি এই ধরনের পরিবর্তনকে ‘কসমেটিক সার্জারি’ বলে উল্লেখ করেছেন, যা সমস্যার সমাধান করবে না।

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ইংল্যান্ড সিরিজের মাঝপথে দল থেকে নয়জনকে সরিয়ে দিয়েছে। এই নয়জনের মধ্যে সাতজন খেলোয়াড় এবং দুজন কোচ রয়েছেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুটি টেস্ট হেরে সিরিজ খোয়ানোর পর এমন বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হলো।

পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক মনে করেন, এভাবে বারবার খেলোয়াড় ও কোচ পরিবর্তন করে পাকিস্তান ক্রিকেটের মূল সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। তিনি সতর্ক করেছেন যে, এই ধরনের পাইকারি পরিবর্তন বরং যা কিছু ঠিকঠাক আছে, সেটিও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। দুনিয়া নিউজের পডকাস্টে পাকিস্তানের ক্রিকেট পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মিসবাহ এই মন্তব্য করেন।

মিসবাহ-উল-হক বলেছেন, চাপের মুখে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ‘কসমেটিক সার্জারি’ করার কোনো অর্থ নেই। তিনি জোর দিয়েছেন যে, এমন উপরিউপরি পরিবর্তনে কোনো লাভ হয় না।

লর্ডসে পাকিস্তান দল ১৯৪ রানে হেরে যাওয়ার সময় মিসবাহ দলের নির্বাচক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। এরপর বোর্ডের নেওয়া বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত তার পছন্দ না হওয়ায় তিনি পদ থেকে সরে দাঁড়ান।

পাকিস্তানের আসলে কী করণীয়, এমন প্রশ্নে মিসবাহ বলেন, দলকে অবশ্যই একটি দল হিসেবে কাজ করতে হবে এবং আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। তিনি ধারাবাহিকতাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, সিদ্ধান্তে ধারাবাহিক থাকা অত্যাবশ্যক।

মিসবাহ আরও বলেছেন, বিষয়গুলো ঠিকভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে। শুধু কসমেটিক সার্জারির জন্য পরিবর্তন আনা যাবে না। তার মতে, কসমেটিক সার্জারি করে কোনো লাভ নেই এবং এটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধান নয়।

২০১৭ সালে খেলোয়াড়ি জীবনকে বিদায় জানানো মিসবাহ পরবর্তী সময়ে দলের কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি চাপের মুখে পরিকল্পনা না বদলানোর উদাহরণ হিসেবে ভারতের কথা তুলে ধরেছেন। মিসবাহ বলেছেন, সারা বিশ্বেই ভালো খেলা বা খারাপ খেলার মতো ঘটনা ঘটে।

তিনি উল্লেখ করেন, অন্যান্য দল নিজেদের বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেয় যে, রোহিত শর্মা বা বিরাট কোহলি খেলবে কি না। তারা কে খেলবে, কত দিন খেলবে, বা কে খেলতে চায় না—এসব বিষয় নিয়ে সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

মিসবাহর মতে, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো দলও খারাপ সময় এলে সমর্থক, গণমাধ্যম কিংবা সমালোচকদের চাপের কাছে তাদের মূল পরিকল্পনা বদলে ফেলে না। তিনি মনে করেন, পাকিস্তানকেও সেই ধৈর্য দেখাতে হবে।

সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, পারফরম্যান্স ওঠানামা করতেই পারে। যত সমালোচনা বা শব্দই হোক না কেন, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো দল তাদের নিজস্ব পরিকল্পনাতেই অটল থাকে। তিনি পরামর্শ দেন যে, পাকিস্তানেরও সেটাই করা উচিত।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতাকেই পাকিস্তান ক্রিকেটের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন মিসবাহ। তিনি বলেছেন, যখন প্রতিক্রিয়াশীল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তখন অনেক সময় এমন হয় যে যা ভাঙা ছিল না, সেটাও ভেঙে ফেলা হয়।

মিসবাহ-উল-হক আরও যোগ করেছেন যে, এমন সিদ্ধান্তের ফলে শেষ পর্যন্ত সেই ক্ষতির বোঝা দলকেই বহন করতে হয়। তিনি স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদী চিন্তাভাবনার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।

পাকিস্তান দল হেডিংলিতে ইনিংস ব্যবধানে এবং লর্ডসে ১৯৪ রানে হেরেছে। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট খেলতে তারা ৯ সেপ্টেম্বর এজবাস্টনে নামবে। এই ম্যাচটি তাদের জন্য সম্মান রক্ষার লড়াই।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...