শিক্ষা

প্রকাশ্যে নকল: বাউবি’র কাজিপুর কেন্দ্র বাতিল, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বহিষ্কার

প্রকাশ্যে নকল: বাউবি’র কাজিপুর কেন্দ্র বাতিল, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বহিষ্কার
প্রকাশ্যে নকল: বাউবি’র কাজিপুর কেন্দ্র বাতিল, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বহিষ্কার
মেহেরপুরের কাজিপুর ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রকাশ্যে নকলের অভিযোগে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র বাতিল, সাত শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার এবং দুই কক্ষ পরিদর্শককে আজীবন অব্যাহতি দিয়েছে।

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুর ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্র বাতিল করেছে। পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রকাশ্যে নকলের অভিযোগ ওঠায় এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে জড়িত সাতজন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং দুজন কক্ষ পরিদর্শককে আজীবনের জন্য পরীক্ষা কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বাউবি’র তথ্য ও গবেষণা বিভাগের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো: খালেকুজ্জামান খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ২৮ ও ২৯ আগস্ট বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে বিএ ও বিএসএস পরীক্ষা-২০২৫-এর ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষা চলাকালে প্রকাশ্যে নকলের অভিযোগ ওঠে। এই বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সর্বদা নকলমুক্ত, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণে অঙ্গীকারবদ্ধ। সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কক্ষ পরিদর্শকদের দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে এমন অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কয়েকটি কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুসারে, কাজিপুর ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রটি বাতিল করা হয়েছে। বাতিলকৃত কেন্দ্রের পরিবর্তে মেহেরপুরের গাংনী মহিলা ডিগ্রি কলেজকে নতুন পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে সাতজন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এছাড়া, গত ২৮ আগস্ট কাজিপুর ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রে কক্ষ পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সহকারী অধ্যাপক মো: হাবিবুর রহমান ও মো: রফিক-উজ-জামানকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলা এবং নকল প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের বিএ ও বিএসএস পরীক্ষা-২০২৫-এর সকল কার্যক্রম থেকে আজীবনের জন্য অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।

ঘটনার তদন্তে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটি কাজ করবে। কমিটিকে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনায় দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে দৃঢ় মনোভাব প্রকাশ করেছে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে।

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান এই বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, "বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় নকল বা পরীক্ষায় কোনো ধরনের অসদুপায়ের বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, একটি সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য পরীক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান জানান, পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার কোনো চেষ্টা বরদাশত করা হবে না। তিনি বলেন, এ ঘটনায় তদন্তসাপেক্ষে দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে বিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পরীক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী, কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ও কক্ষ পরিদর্শকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সাথে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভিসি তাদের প্রতি এই নির্দেশনা জারি করেছেন।

কর্তব্যরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও প্রহারের ঘটনায় বাউবির ভিসি তীব্র নিন্দা ও গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। তিনি এ ঘটনায় আহত সাংবাদিকদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...