ইনভেস্টর প্রটেকশন ফান্ডের (আইপিএফ) চেয়ারম্যান নাসরিন বেগম পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি অনিয়ম প্রতিরোধ, ঝুঁকি কমানো এবং দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আইপিএফের ভূমিকা কেবল ক্ষতিপূরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠন এবং পুঁজিবাজারের প্রতি মানুষের বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যম।
আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩টায় রাজধানীর নিকুঞ্জে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কনফারেন্স রুমে আয়োজিত আইপিএফের অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। আইপিএফ চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, কোনো ট্রেডহোল্ডার ডিফল্ট করলে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার জন্যই এই প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা ব্যবস্থা। বিনিয়োগকারীরা যখন তাদের কষ্টার্জিত অর্থ বিনিয়োগ করেন, তখন তারা বাজারের প্রতিষ্ঠান, দেশের অর্থনীতি এবং একটি সুশৃঙ্খল বিনিয়োগ পরিবেশের ওপর আস্থা রাখেন।
তিনি আরও বলেন, সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করা সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব। বিনিয়োগের সঙ্গে ঝুঁকি জড়িত থাকে। তবে কোনো ট্রেডহোল্ডারের ডিফল্টের কারণে একজন বিনিয়োগকারী ক্ষতির মুখে পড়লে তার পাশে একটি কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইপিএফ থেকে দেওয়া অর্থ কেবল আর্থিক সহায়তা নয়, এটি বিনিয়োগকারীদের প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ববোধ এবং তাদের আস্থার প্রতি সম্মানের প্রকাশ।
নাসরিন বেগম উল্লেখ করেন, আর্থিক ক্ষতির সঙ্গে অনেক সময় মানুষের স্বপ্ন, পরিবারের প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জড়িত থাকে। কোনো ক্ষতিপূরণই সেই কষ্ট পুরোপুরি মুছে দিতে পারে না। তবে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ন্যায্য স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। তিনি আইপিএফের ক্ষতিপূরণ কাঠামো, ক্লেইম নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া এবং সামগ্রিক সুরক্ষা ব্যবস্থা সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত পর্যালোচনা ও আরও কার্যকর করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, একজন ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী শুধু প্রাপ্য অর্থ পাওয়ার সুযোগই পাবেন এমন নয়। প্রতিকার হতে হবে সময়সীমাবদ্ধ, স্বচ্ছ ও কার্যকর। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীর অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং বাজারে জবাবদিহিতা আরও নিশ্চিত করতে হবে। আইপিএফ চেয়ারম্যানের মতে, পুঁজিবাজারের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ও আস্থা রক্ষা জনস্বার্থেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।



মতামত (0)