শিক্ষা

রাবি শিক্ষার্থীকে মারধর, রেল স্টেশনে শিক্ষার্থীদের অবরোধ

রাবি শিক্ষার্থীকে মারধর, রেল স্টেশনে শিক্ষার্থীদের অবরোধ
রাবি শিক্ষার্থীকে মারধর, রেল স্টেশনে শিক্ষার্থীদের অবরোধ
গতকাল রাজশাহী রেল স্টেশনে রেল কর্মচারীদের মারধরের শিকার হন রাবি শিক্ষার্থী আইয়ুব আলী। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা রেল স্টেশন অবরোধ করেছেন, ফলে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

রাজশাহী রেল স্টেশনে রেল কর্মচারীদের মারধরের শিকার হয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আইয়ুব আলী। তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল রোববার রাত ৮টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

আহত শিক্ষার্থীর মাথায় আঘাত রয়েছে এবং চিকিৎসকরা তাকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখার কথা বলেছেন। আইয়ুব আলীর চাচাকে রিসিভ করতে তিনি রাজশাহী রেল স্টেশনে গিয়েছিলেন। এ সময় স্টেশনে ইংরেজি বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের কথা কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে আইয়ুব আলী ওই শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বলতে গেলে তাকে মারধর করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী রায়হান আলী জানান, তিনি গেটের কাছে ঝামেলা দেখে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের সঙ্গে আরও তিনজন লোক ছিলেন এবং তারা তিনজনকে মারধর করছিলেন।

রায়হান আলী আরও বলেন, মারধরের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে একজন রাবির শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ঘটনার প্রতিবাদ জানালেও পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় সরে আসেন।

এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল রাত ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাবি রেল স্টেশনে অবরোধ করেন। এর ফলে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সংবাদ পেয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম এবং প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান হাসপাতালে যান। উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম জানান, আহত শিক্ষার্থী আইয়ুবকে হাসপাতালের আট নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তার মাথায় আঘাত রয়েছে এবং ইতোমধ্যে সিটি স্ক্যান করা হয়েছে।

উপাচার্য আরও বলেন, আইয়ুবের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি বিষয়টি রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার এবং পশ্চিম রেলের মহাব্যবস্থাপককে (জিএম) জানিয়েছেন। তিনি এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন এবং উল্লেখ করেন, এর আগেও দুই-তিনবার রাবি শিক্ষার্থীদের মারধর করেছেন রেল কর্মচারীরা।

এদিকে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাউদ্দিন আম্মার তার ফেসবুক আইডি থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, "আমার শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত দিবা? ক্যাম্পাসের উপর দিয়ে ট্রেন চললে ভালোভাবে চলতে হবে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "১ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার না করলে প্রত্যেক ট্রেন থেকে ২ জন করে ট্রেন স্টাফ তুলবো আমি।"

সালাউদ্দীন আম্মার পোস্টে আরও জানান, আইয়ুব আলী যাত্রী ছিলেন না। ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমস্যা হলে তিনি সেখানে গিয়ে প্রতিবাদ করেন, এটাই তার অপরাধ। তিনি বলেন, আইয়ুবের মাথায় রক্ত জমাট বেঁধেছে, অপারেশন করতে হবে।

পশ্চিম রেলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আহম্মদ হোসেন মাসুম জানান, অবরোধের কারণে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী মধুমতি এক্সপ্রেস হরিয়ান স্টেশনে আটকে আছে। রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে পারেনি। তিনি বলেন, তারা ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনার চেষ্টা করছেন। ঘটনার সাথে জড়িত রেল কর্মচারীদের বিষয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...