রাজশাহী মহানগরীতে চারটি ফ্লাইওভার নির্মাণের মেয়াদ শেষ হলেও কাজ এখনো অসমাপ্ত। যানজট নিরসন ও রেলক্রসিংয়ে নির্বিঘ্ন যোগাযোগের স্বপ্ন নিয়ে এই প্রকল্পগুলো শুরু হয়েছিল। নির্মাণকাজের দীর্ঘসূত্রতার কারণে বর্তমানে নগরবাসী চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ভাঙাচোরা সড়ক, খানাখন্দ, কাদা ও জলাবদ্ধতা নিত্যদিনের চিত্র।
নির্মাণকাজের কারণে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বন্ধ বা আংশিক সংকুচিত হয়ে আছে। বিকল্প পথে যান চলাচল করায় প্রতিনিয়ত যানজট তৈরি হচ্ছে। বৃষ্টির পানি জমে গর্ত ঢেকে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে এবং যানবাহন বিকল হচ্ছে। নির্মাণ এলাকার ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
নগরবাসীর অভিযোগ, উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল পাওয়ার আগেই তাদের দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কাজের ধীরগতি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সেবা সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং প্রকল্প তদারকিতে দুর্বলতাকে এই পরিস্থিতির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) জানিয়েছে, বিল পরিশোধ সংক্রান্ত জটিলতা ইতিমধ্যে নিরসন হয়েছে। ঠিকাদারদের সংশোধিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নগর কর্তৃপক্ষ আশা করছে, চলতি ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ দুটি থেকে তিনটি ফ্লাইওভার যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হবে।
রাসিকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনটি ফ্লাইওভারের নতুন সময়সীমা ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। চারটি প্রকল্পের মধ্যে সবচেয়ে বড় শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান চত্বর ফ্লাইওভারের মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে।
নগরীর গুরুত্বপূর্ণ রেলক্রসিংগুলোর যানজট কমাতে চারটি ফ্লাইওভার নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে রায়পাড়া ফ্লাইওভারের জন্য ৮৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা, বন্ধগেট ফ্লাইওভারের জন্য ৯৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং বিলশিমলা ফ্লাইওভারের জন্য ৮৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান চত্বর ফ্লাইওভারের জন্য ২৭০ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এই প্রকল্পটিই চার প্রকল্পের মোট ব্যয়ের প্রায় অর্ধেক। এটি বর্তমানে সবচেয়ে বেশি জটিলতা ও বিতর্কের মধ্যে রয়েছে।
ফ্লাইওভারগুলোর মূল লক্ষ্য ছিল রেলক্রসিংয়ে যানবাহনের অপেক্ষা কমানো এবং নগরীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করা। তবে নির্মাণকাজ চলার সময় সেই রেলক্রসিং ও আশপাশের সড়কেই এখন যানজটের নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।



মতামত (0)