জাতীয়

রাজশাহীতে ফ্লাইওভার নির্মাণে দীর্ঘসূত্রতা, ভোগান্তিতে নগরবাসী

রাজশাহীতে ফ্লাইওভার নির্মাণে দীর্ঘসূত্রতা, ভোগান্তিতে নগরবাসী
রাজশাহীতে ফ্লাইওভার নির্মাণে দীর্ঘসূত্রতা, ভোগান্তিতে নগরবাসী
রাজশাহীতে চারটি ফ্লাইওভার নির্মাণের মেয়াদ শেষ হলেও কাজ অসমাপ্ত, ফলে ভাঙাচোরা সড়ক ও যানজটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।

রাজশাহী মহানগরীতে চারটি ফ্লাইওভার নির্মাণের মেয়াদ শেষ হলেও কাজ এখনো অসমাপ্ত। যানজট নিরসন ও রেলক্রসিংয়ে নির্বিঘ্ন যোগাযোগের স্বপ্ন নিয়ে এই প্রকল্পগুলো শুরু হয়েছিল। নির্মাণকাজের দীর্ঘসূত্রতার কারণে বর্তমানে নগরবাসী চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ভাঙাচোরা সড়ক, খানাখন্দ, কাদা ও জলাবদ্ধতা নিত্যদিনের চিত্র।

নির্মাণকাজের কারণে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বন্ধ বা আংশিক সংকুচিত হয়ে আছে। বিকল্প পথে যান চলাচল করায় প্রতিনিয়ত যানজট তৈরি হচ্ছে। বৃষ্টির পানি জমে গর্ত ঢেকে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে এবং যানবাহন বিকল হচ্ছে। নির্মাণ এলাকার ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

নগরবাসীর অভিযোগ, উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল পাওয়ার আগেই তাদের দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কাজের ধীরগতি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সেবা সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং প্রকল্প তদারকিতে দুর্বলতাকে এই পরিস্থিতির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) জানিয়েছে, বিল পরিশোধ সংক্রান্ত জটিলতা ইতিমধ্যে নিরসন হয়েছে। ঠিকাদারদের সংশোধিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নগর কর্তৃপক্ষ আশা করছে, চলতি ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ দুটি থেকে তিনটি ফ্লাইওভার যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হবে।

রাসিকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনটি ফ্লাইওভারের নতুন সময়সীমা ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। চারটি প্রকল্পের মধ্যে সবচেয়ে বড় শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান চত্বর ফ্লাইওভারের মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে।

নগরীর গুরুত্বপূর্ণ রেলক্রসিংগুলোর যানজট কমাতে চারটি ফ্লাইওভার নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে রায়পাড়া ফ্লাইওভারের জন্য ৮৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা, বন্ধগেট ফ্লাইওভারের জন্য ৯৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং বিলশিমলা ফ্লাইওভারের জন্য ৮৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান চত্বর ফ্লাইওভারের জন্য ২৭০ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এই প্রকল্পটিই চার প্রকল্পের মোট ব্যয়ের প্রায় অর্ধেক। এটি বর্তমানে সবচেয়ে বেশি জটিলতা ও বিতর্কের মধ্যে রয়েছে।

ফ্লাইওভারগুলোর মূল লক্ষ্য ছিল রেলক্রসিংয়ে যানবাহনের অপেক্ষা কমানো এবং নগরীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করা। তবে নির্মাণকাজ চলার সময় সেই রেলক্রসিং ও আশপাশের সড়কেই এখন যানজটের নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।

রেলগেট চত্বর এলাকা থেকে শালবাগানগামী প্রধান সড়কের একাংশ দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণসামগ্রী ও পিলারের কাঠামো দিয়ে আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। এই রুটে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তর থাকায় প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ব্যাপক ভিড় থাকে।

নির্মাণকাজের কারণে বিকল্প পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় ট্রাফিক পুলিশ বা নিরাপত্তাকর্মী না থাকায় ভারী যানবাহন, ইজিবাইক ও পথচারীদের বিশৃঙ্খল চলাচল প্রতিনিয়ত প্রাণের ঝুঁকি তৈরি করছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের গর্তগুলো কাদাপানিতে ঢেকে গিয়ে শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

নগরীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যান চলাচলের পয়েন্টগুলোর একটি হলো রেলগেট। বিন্দুর মোড় থেকে নিউ মার্কেট পর্যন্ত নির্মাণাধীন কামারুজ্জামান চত্বর ফ্লাইওভারের কাজের কারণে সড়কের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে সংকুচিত হয়ে আছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ফ্লাইওভারের বিভিন্ন অংশে এখনও পিলার নির্মাণসহ অবকাঠামোগত কাজ চলছে। নির্মাণসামগ্রী ও কাজের জন্য সড়কের ব্যবহারযোগ্য অংশ কমে যাওয়ায় ব্যস্ত সময়ে যানবাহনের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

রেলগেটের একজন ব্যবসায়ী বলেন, "প্রায় ছয় মাস ধরে ব্যবসা বলতে কিছুই নেই।" তার মতো আরও অনেক ব্যবসায়ী জানান, নির্মাণকাজের কারণে দোকানের সামনে স্বাভাবিকভাবে ক্রেতারা আসতে পারছেন না।

ফ্লাইওভার নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা খুঁড়ে রাখা হয়েছে এবং কোথাও পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে।

ইজিবাইকচালক জাহিদুল ইসলাম বলেন, গর্ত ও ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে প্রায়ই যানবাহন নষ্ট হচ্ছে। রিকশাচালক শুকুর আলী জানান, বৃষ্টির পর গর্তে পানি জমে গেলে বিপদ আরও বাড়ে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...