জাতীয়

১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতির আশা প্রতিমন্ত্রীর

১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতির আশা প্রতিমন্ত্রীর
১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতির আশা প্রতিমন্ত্রীর
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আশা প্রকাশ করেছেন যে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে। তিনি জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জাতীয় সংসদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের বিরোধীদলীয় সদস্য মো. নুরুল ইসলামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের মানুষ বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে ভোগান্তিতে রয়েছে। সরকার এই পরিস্থিতির প্রকৃত কারণ আড়াল করতে চায় না। ভুল নীতির প্রভাবের পাশাপাশি সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি জানান, দেশের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ শুধু গ্যাস দিয়ে উৎপাদন করতে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। বর্তমানে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে দৈনিক ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব।

পুরো গ্যাস বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করলে শিল্প ও গৃহস্থালি খাতে সরবরাহ ব্যাহত হবে। তাই বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প ও গৃহস্থালি—এই তিন খাতের মধ্যে ভারসাম্য রেখে গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। একই ক্ষমতার মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ আছে। দুটি ইউনিট দ্রুত পূর্ণ ক্ষমতায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আদানি থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে তিনি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা। বর্তমানে দিনে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় প্রায় ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

এছাড়াও, আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য দেশে দুটি এফএসআরইউ রয়েছে। এর মধ্যে একটি গত ২১ জুলাই ত্রুটিগ্রস্ত হওয়ায় মেরামতে প্রায় ২১ থেকে ২২ দিন সময় লাগে। এতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে।

বর্তমানে এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থার প্রায় ৮৮ শতাংশ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছে। আগামী মাসের শুরুতেই জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বলেও প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলায় ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এসব কেন্দ্র থেকে ৬ থেকে সাড়ে ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা বলা হলেও বাস্তবে কেন্দ্রগুলো পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্ট। সে কারণে এগুলো একটানা চালানো সম্ভব নয়। সর্বোচ্চ ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ সক্ষমতায় এগুলো পরিচালনা করা যায়।

বর্তমানে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে প্রায় ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। উৎপাদন বাড়াতে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগের সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জমে থাকা বকেয়া হিসেবে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছে সরকারের প্রায় ৪৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এই অর্থ পরিশোধ করা হলে কেন্দ্রগুলো থেকে প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।

পায়রা ও মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র দ্রুত পূর্ণ ক্ষমতায় চালুর পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাত ৮টার মধ্যে বিপণিবিতান ও দোকানপাট বন্ধ রাখার সরকারি উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে এ নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। নির্দেশনা কার্যকর করতে নিজ নিজ এলাকায় সংসদ সদস্যদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

মধ্যমেয়াদি সমাধান হিসেবে রুফটপ সোলারকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুম সামনে রেখে সরকারি-বেসরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থানীয় উদ্যোক্তারা এসব প্রকল্পে বিনিয়োগ করবেন। উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে সরকারের কাছে বিক্রি করতে পারবেন তারা। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, উৎপাদন ব্যয় সর্বোচ্চ ৮ টাকা হতে পারে।

আগামী ছয় মাসের মধ্যে যারা রুফটপ সোলার স্থাপন করবেন, তারা তিন বছর পর্যন্ত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করে বিনিয়োগের অংশ পুনরুদ্ধার করতে পারবেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...