রাজনীতি

রাষ্ট্র সংস্কারে রাসূল সা.-এর নীতি ও আদর্শ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

রাষ্ট্র সংস্কারে রাসূল সা.-এর নীতি ও আদর্শ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত
রাষ্ট্র সংস্কারে রাসূল সা.-এর নীতি ও আদর্শ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদ একটি সংক্রামক ব্যাধি। তিনি রাষ্ট্র সংস্কারে রাসূল সা.-এর নীতি ও আদর্শ অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জাতীয় সীরাত উদযাপন কমিটি সীরাতুন্নবী সা. উপলক্ষে একটি সেমিনার ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। গতকাল রোববার দুপুরে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারের বিষয় ছিল ‘রাষ্ট্র সংস্কারে রাসূল সা.-এর নীতি ও আদর্শ’।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট দলের সম্পত্তি নয়, এটি একটি সংক্রামক ব্যাধি। যার ভেতরে এটি প্রবেশ করে, সে-ই ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠে।

ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ইসলাম শান্তি, ঐক্য ও সমন্বয়ের ধর্ম। কুরআনের শাসন যখন যেখানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, মানুষ তখনই শান্তি ও শৃঙ্খলা পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, আগামীর বাংলাদেশ হবে ইসলামের বাংলাদেশ।

বিরোধীদলীয় নেতা 'জুলাই জাদুঘর'কে কেবলমাত্র পতিত সরকারের ডামি রূপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাস্তবে তারচেয়ে বহুগুণ বেশি জুলুম জাতির ওপর করা হয়েছে। একটি বিশেষ দেশকে খুশি করতে ওই জুলুমের অনেক তথ্য গায়েব করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে আন্দোলনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি ও উপাদান গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। সীমান্তে ফেলানীকে হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখার সেই বর্বরোচিত ছবি জুলাই জাদুঘর থেকে গায়েব করা হয়েছে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেনকে রিমান্ডের নামে অমানবিক পৈশাচিক যেই নির্যাতন করা হয়েছে, সেই নির্যাতনের ছবিও গায়েব করা হয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ক্ষমতায় যারাই আসে, তারা বলে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে, কিন্তু তারা প্রত্যেকেই ইতিহাস বিকৃত করেছে এবং করছে। তিনি চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবকে যেন কেউ ‘ফাইনাল যুদ্ধ’ বলে মনে না করে; চব্বিশের আন্দোলন ছিল শুধুই একটি ‘রিহার্সেল’।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, চব্বিশের জেগে ওঠা মুক্তিকামী মানুষ মরেনি। তারা এখনও সজাগ দৃষ্টিতে দেশের সব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, মহানবী সা.-এর নীতি ও আদর্শ জনগণের মাঝে পৌঁছাতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ একদিন সীরাতের আদর্শে পরিচালিত হবে।

প্রফেসর ড. খালিদ হোসেন বলেন, আমাদের দেশের সবুজ পাসপোর্ট নিয়ে পৃথিবীর কোনো দেশে গেলে ইজ্জত পাওয়া যায় না। এর অন্যতম কারণ আমরা এক দেশে ঢুকতে পারলে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে আরেক দেশে ঢুকে যাই, কারণ আমাদের নৈতিক আদর্শ নেই।

তিনি বলেন, নৈতিক আদর্শ গঠনের জন্য মহানবী সা.-এর নীতি ও আদর্শে ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তিনি দেশবাসীকে শহীদদের রক্তের বাংলাদেশে ইসলামী সমাজ বিনির্মাণে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, কুরআনে আল্লাহ নিজে বলেছেন, সমস্ত মানব রচিত আদর্শের বিপরীতে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একমাত্র রাসূল সা.-এর নীতি ও আদর্শকে জীবন ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান আরও বলেন, মদিনা সনদে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি নেই। তবে যারা মদিনা সনদে দেশ পরিচালনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করেছে, তাদের মাঝে দুর্নীতি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি দেখা যায়।

বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আ ন ম রফিকুর রহমান মাদানীর সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপিও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারে মহানবী সা.-এর নীতি ও আদর্শ বর্তমান সময়ে খুবই প্রাসঙ্গিক। সুখী-সমৃদ্ধ, মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে মহানবী সা.-এর নীতি ও আদর্শ অনুসরণের বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছরে দেশ বারবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, এই ৫৫ বছরে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে ক্ষমতাসীনেরা দলীয়করণের মাধ্যমে জনগণকে শোষণ করেছে। তাদের স্বার্থের জন্য জনগণের ওপর স্টিমরোলার চালিয়েছে। কিন্তু যখন তারা বিরোধী দলে থাকে, তখন ইনসাফ ও ন্যায়ের বাণী শোনায়।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...