আন্তর্জাতিক

রিয়াদে টানা তৃতীয় দিনের মতো হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

রিয়াদে টানা তৃতীয় দিনের মতো হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
রিয়াদে টানা তৃতীয় দিনের মতো হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে টানা তৃতীয় দিনের মতো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। এসব হামলায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন এবং কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে টানা তৃতীয় দিনের মতো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, তাদের বাহিনী রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। এছাড়া সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের দিকে ছোড়া আরও দুটি ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিহত করা হয়েছে বলে জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

গতকাল সোমবার (১২ অক্টোবর) হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল রাজধানী রিয়াদ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইত। হুথি বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া কাসিম সারী একটি এক্সপোস্টে রিয়াদ এবং খামিস মুশাইতে হামলার দায় স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সারী আরও বলেন, খামিস মুশাইত জেলার ইয়েমেনের সীমান্তে সৌদি সেনাবাহিনীর একটি বিমানঘাঁটি রয়েছে। সেই বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে। সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ধারাবাহিক এসব হামলায় এরইমধ্যে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েকদিনের হামলায় সৌদিতে হতাহতের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি দ্রুত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। এসব হামলার পর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিতের মেয়াদ আগামী শনিবার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

বিমানবন্দরে কার্যক্রম স্থগিতের কারণে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা সংস্থা তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে। হুথি মুখপাত্র আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা সংস্থাগুলো এবং ভ্রমণকারীদের সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সৌদি আরবের মক্কা-মদিনা ব্যতীত আর কোনো অঞ্চলের আকাশসীমা নিরাপদ নয়। আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা সংস্থাগুলো এবং ভ্রমণকারীরা যেন এ বিষয়টিকে মাথায় রেখে সৌদি ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র সমালোচনা করেছেন। রিয়াদের কিং খালিদ এবং দাম্মামের কিং ফাহাদ বিমানবন্দরে ধারাবাহিক হামলায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুথিদের আচরণকে অত্যন্ত খারাপ বলে মন্তব্য করেছেন।

সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কেন ধারাবাহিক হামলা ঠেকাতে পারেনি, তা তদন্ত করে দেখছে। একটি বার্তা সংস্থাকে এ বিষয়ে অবগত দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, হুথিরা প্রথমে কয়েকটি ড্রোন পাঠিয়ে পথ পরিষ্কার করে। এরপর ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত হামলা চালানো হয়, যার কিছু বিমানবন্দরে আঘাত হানে।

কর্মকর্তারা আরও জানান, হুথিদের হাতে এমন কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যেগুলোর ওয়ারহেড মাঝ আকাশে দিক পরিবর্তন করতে পারে। এতে সৌদি আরবের হাতে থাকা প্যাট্রিয়টসহ অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার পক্ষে সেগুলো প্রতিহত করা কঠিন। প্রায় এক হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রিয়াদে পৌঁছালেও কেন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আগেভাগে সতর্কবার্তা দিতে পারেনি, সেই প্রশ্নের উত্তরও খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে থাকায় দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না। তিনি সাধারণ প্রাসাদ থেকে বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। হুথি যোদ্ধারা সৌদিতে হামলা অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

হুথি গোষ্ঠীর রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরের কর্মীদের এসব এলাকা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, এসব স্থাপনা এখন তাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু। এক হুথি কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতে জড়ালে সেটার পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...