বিনোদন

সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলনায়ক ডন ৫ দিনের রিমান্ডে

সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলনায়ক ডন ৫ দিনের রিমান্ডে
সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলনায়ক ডন ৫ দিনের রিমান্ডে
জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় অভিনেতা ডনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। সিআইডি তিনটি কারণ দেখিয়ে রিমান্ডের আবেদন করেছিল।

জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় ঢাকাই চলচ্চিত্রের খলনায়ক আশরাফুল হক ডনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আসামির উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, এই আদেশ দেন। এটি তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে করা হয়েছে।

এর আগে, ২০ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের ইন্সপেক্টর মজিবুর রহমান, ডনকে সাত দিনের রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করেছিলেন। তিনি তিনটি নির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে এই আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছিলেন।

শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে, ডনের পক্ষে ঢাকা বারের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এবং অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ডনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডের আবেদনে সিআইডি প্রথম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে যে, এই ঘটনাটি আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর। ভুক্তভোগী জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ এবং তার মা ১৯৯৬ সাল থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন। তারা বিভিন্ন পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে সক্রিয়। সিআইডি মনে করে, ডনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হতে পারে।

দ্বিতীয় কারণ হিসেবে সিআইডি ডনকে 'অত্যন্ত সুকৌশলী ও ধূর্ত প্রকৃতির' বলে বর্ণনা করেছে। তারা দাবি করেছে, তাকে পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড়ভাবে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলার ঘটনায় জড়িত অন্যান্য সহযোগী আসামিদের অবস্থান নির্ণয় করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং নিবিড় তদন্তের স্বার্থে তাকে পুলিশ রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

তৃতীয় কারণ হিসেবে সিআইডি বলেছে, ডনের বিরুদ্ধে বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তিনি বিভিন্ন কৌশলে বিদেশে পালিয়ে যাচ্ছিলেন। কী কারণে এবং কার ইন্ধনে তিনি বিদেশে যাচ্ছিলেন, সেই সংক্রান্ত তথ্য উদঘাটনসহ মামলার প্রকৃত রহস্য জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।

ডনকে গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এরপর তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং ওই দিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ১২ আগস্ট তার জামিন আবেদন করা হলেও আদালত তা নাকচ করে দেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...