শিক্ষা

সাউথ পয়েন্টের শিক্ষার্থী অমিত ঘোষের মৃত্যু, রহস্য ঘেরা ঘটনা

সাউথ পয়েন্টের শিক্ষার্থী অমিত ঘোষের মৃত্যু, রহস্য ঘেরা ঘটনা
সাউথ পয়েন্টের শিক্ষার্থী অমিত ঘোষের মৃত্যু, রহস্য ঘেরা ঘটনা
সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী অমিত ঘোষ ১১তলা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি দুর্ঘটনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী অমিত ঘোষ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। গতকাল সোমবার সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। কলেজের মালিবাগ ক্যাম্পাসের বহুতল ভবন থেকে পড়ে সে গুরুতর আহত হয়েছিল।

গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলেজের দুজন শিক্ষক এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তারা জানান, গত রোববার সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটের দিকে অমিত কলেজের ৬ নম্বর ভবনের ১১তলা থেকে নিচে পড়ে যায়। দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে শ্যামলীর একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছিল। গতকাল সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসক অমিতকে মৃত ঘোষণা করেন।

অমিতের মৃত্যুতে সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গতকাল মালিবাগ শাখার বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের গ্রুপে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে একটি বার্তা পাঠানো হয়। বার্তায় বলা হয়, ‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমাদের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী অমিত ঘোষ আর আমাদের মাঝে নেই।’

বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়, ‘গতকাল সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে অমিত ঘোষ ইহলোকের মায়া ত্যাগ করে পরলোকে পাড়ি জমিয়েছে। অমিতের অকাল প্রয়াণে সাউথ পয়েন্ট পরিবার গভীরভাবে শোকাহত।’ অমিত ঘোষ সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি ভার্সনের ‘আইসোটোপ’ সেকশনের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

অমিত কীভাবে ভবন থেকে নিচে পড়লো, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি দুর্ঘটনা নাকি সে ইচ্ছাকৃতভাবে ভবন থেকে লাফ দিয়েছিল, এ নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। কয়েকজন শিক্ষক দাবি করছেন, অমিত আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে ভবন থেকে লাফ দিয়েছিল।

তবে অভিভাবকদের একটি অংশ এই ধারণার সঙ্গে একমত নয়। তাদের ভাষ্য, যে ভবন থেকে অমিত পড়ে গেছে সেটি নির্মাণাধীন। ১১তলা পুরোপুরি খোলা এবং সেখানে এখনো নির্মাণকাজ চলছে। শিক্ষার্থীদের ওই এলাকায় যাতায়াত নিষেধ ছিল।

ফলে অমিত সেখানে কেন ও কীভাবে গিয়েছিল, সেটি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে অভিভাবকরা মনে করেন। অমিতের ব্যবহৃত ফেসবুক প্রোফাইলের বায়োতে তার জন্মতারিখের পাশাপাশি ‘13/09/2026’ তারিখটি মৃত্যুর তারিখ হিসেবে উল্লেখ ছিল বলে জানা গেছে। সেখানে আরও লেখা ছিল, ‘Stand proud. You're limited edition. Only one ever created.’

ঘটনার পর তার প্রোফাইলে আগে থেকেই মৃত্যুর তারিখ উল্লেখ থাকার বিষয়টি সামনে এলে শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়। কেউ কেউ এটিকে আত্মহত্যার ধারণার সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইলে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে তার মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা যায় না।

ঘটনার পর রামপুরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এ ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি বলে জানিয়েছেন রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঘটনাটি নিয়ে সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. শামসুল আলম ও উপাধ্যক্ষ জেরিনা ফেরদৌসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...