শিক্ষাস্কুল ভবন থেকে পড়ে শিক্ষার্থী গুরুতর আহত, ফেসবুকে 'মৃত্যুর তারিখ' নিয়ে জল্পনা
স্কুল ভবন থেকে পড়ে শিক্ষার্থী গুরুতর আহত, ফেসবুকে 'মৃত্যুর তারিখ' নিয়ে জল্পনা
রাজধানীর এক স্কুল ভবন থেকে পড়ে দ্বাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তার ফেসবুক প্রোফাইলে ১৩ সেপ্টেম্বরকে 'মৃত্যুর তারিখ' হিসেবে উল্লেখ করা ছিল, যা ঘটনার দিন।
রাজধানীর সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিবাগ ক্যাম্পাসের একটি ভবন থেকে পড়ে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী অমিত ঘোষ (১৬) গুরুতর আহত হয়েছে। সে বর্তমানে রাজধানীর শ্যামলীর একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছে।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর (রোববার) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মালিবাগ ক্যাম্পাসের ৬ নম্বর ভবনের ১১তলা থেকে অমিত নিচে পড়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
অমিতের ২০২৭ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে ভবন থেকে তার পড়ে যাওয়ার ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি সে ইচ্ছাকৃতভাবে লাফ দিয়েছিল, এ নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের কয়েকজন শিক্ষক দাবি করেছেন, অমিত আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে ভবন থেকে লাফ দিয়েছে। তারা অমিতের ব্যাগ থেকে কথিত একটি সুইসাইড নোট পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন। এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, কয়েকজন অভিভাবক ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে মানতে নারাজ। তাদের ভাষ্য, যে ভবন থেকে অমিত পড়ে গেছে সেটি এখনো নির্মাণাধীন। ভবনের ১১তলা পুরোপুরি খোলা এবং সেখানে নির্মাণকাজ চলমান ছিল। শিক্ষার্থীদের সেখানে যাতায়াত নিষেধ করা হয়েছিল। ফলে অমিত সেখানে কীভাবে গেল এবং কীভাবে নিচে পড়ে গেল, সেটি তদন্ত করে দেখার প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
ঘটনার পর অমিতের ব্যবহৃত ফেসবুক প্রোফাইলের বায়োতে লেখা তথ্য নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। সেখানে তার জন্মতারিখের পাশাপাশি ‘১৩/০৯/২০২৬’ তারিখটি মৃত্যুর তারিখ হিসেবে উল্লেখ করা রয়েছে। একই সঙ্গে ইংরেজিতে লেখা রয়েছে, ‘স্ট্যান্ড প্রাউড। ইউ আর লিমিটেড এডিশন। অনলি ওয়ান এভার ক্রিয়েটেড।’
প্রোফাইলে আগে থেকেই ওই তারিখ উল্লেখ থাকার বিষয়টি দেখে অনেকেই ঘটনাটিকে আত্মহত্যার চেষ্টা বলে ধারণা করছেন। তবে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইলে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটির কারণ নিশ্চিত করা যায় না।
সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অন্তত তিনজন শিক্ষক ও দুজন অভিভাবক জানান, গত ১৩ সেপ্টেম্বর (রোববার) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটের দিকে ৬ নম্বর ভবনের ১১তলা থেকে অমিত নিচে পড়ে যায়। উপুড় হয়ে পড়ায় তার নাক-মুখ ও মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অভিভাবক শাকিলা আক্তার দীপা সাউথ পয়েন্ট স্কুলের একটি ফেসবুক গ্রুপে দাবি করেন, অমিত নিজেই ভবন থেকে লাফ দিয়েছিল। তার ব্যাগে একটি সুইসাইড নোট পাওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তবে এসব তথ্যের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শিক্ষক গোপাল দেবনাথ জানিয়েছেন, তিনি ঘটনাটি নিজে দেখেননি। শিক্ষার্থী লাফ দিয়েছে নাকি দুর্ঘটনাবশত পড়ে গেছে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। ঘটনার পর স্কুলের বিভিন্ন অভিভাবক গ্রুপে অমিতের গেমে আসক্ত থাকার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়। একটি গ্রুপে গণিতের শিক্ষক গোপাল দেবনাথ দাবি করেন, অমিত ‘অ্যানিমে’ নামের একটি মোবাইল গেমে আসক্ত ছিল এবং সে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে।
তবে পরে গোপাল দেবনাথ বলেন, ‘৬ নম্বর ভবনের ১১তলা থেকে লাফ দিয়েছে, এটুকুই আমি শুনেছি। কিন্তু সে লাফ দিয়েছে, নাকি পড়ে গেছে তা জানি না। আর তার ব্যাগে নাকি সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে। সবই শুনেছি। আমি কিছু দেখিনি। গেমে আসক্তির বিষয়টিও শোনা।’
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, আহত শিক্ষার্থী অমিত ঘোষকে সকালে ঢামেক হাসপাতালে আনা হয়েছিল। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে শ্যামলীর একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢামেক থেকে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, অমিতের ভবন থেকে পড়ে যাওয়ার প্রকৃত কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। ঘটনাটি দুর্ঘটনা, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে লাফ দেওয়ার ঘটনা, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. শামসুল আলম ও উপাধ্যক্ষ জেরিনা ফেরদৌসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন ধরেননি। অমিতের পরিবারের একটি মোবাইল নম্বরেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
মতামত (0)