সারাদেশ

সীতাকুণ্ডে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, অস্ত্র হাতে যুবকদের মহড়া

সীতাকুণ্ডে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, অস্ত্র হাতে যুবকদের মহড়া
সীতাকুণ্ডে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, অস্ত্র হাতে যুবকদের মহড়া
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে দলের দুই পক্ষের সংঘর্ষে অস্ত্র হাতে দুই যুবককে দেখা গেছে। এতে ককটেল বিস্ফোরণ ও মহাসড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে দলের দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দুই যুবককে অস্ত্র হাতে মহড়া দিতে দেখা যায়। একটি ভিডিওতে পাঞ্জাবি ও জিনসের প্যান্ট পরা এক যুবককে অস্ত্র হাতে প্রতিপক্ষকে ধাওয়া করতে দেখা যায়। অন্য একটি ভিডিওতে আরেক যুবককে অস্ত্র হাতে প্রতিপক্ষের দিকে তেড়ে যেতে দেখা যায়।

অতিরিক্ত চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. রাসেল রাতে জানান, অস্ত্রধারী একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তিনি আরও বলেন, অস্ত্রধারী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

গতকাল মঙ্গলবার বেলা তিনটায় সীতাকুণ্ড পৌর সদরের মুন স্টার ক্লাবে কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের অনুসারীরা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। একই ক্লাবে একই সময়ে অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি নেন আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরাও। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত দুই দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দুই পক্ষকে পৃথক সময়ে অনুষ্ঠান করার নির্দেশনা দেয়। কাজী সালাউদ্দিনের পক্ষকে বেলা দুইটার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করার সময় বেঁধে দেওয়া হয়।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল নয়টা থেকেই মুন স্টার ক্লাব এলাকায় আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা অবস্থান নেন। এ সময় কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা ক্লাব থেকে কিছুটা দূরে হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় অবস্থান করছিলেন।

বেলা একটার দিকে আসলাম চৌধুরীর পক্ষের লোকজন মিছিল নিয়ে হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় পৌঁছালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় তিনটি মিনিবাস ভাঙচুর করা হয়। কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা এই ঘটনার জন্য আসলাম চৌধুরীর অনুসারীদের দায়ী করেন। তবে আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ককটেল বিস্ফোরণ ও হামলার প্রতিবাদে কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা বাঁশবাড়িয়া এলাকায় মহাসড়কের দুই লেন আটকে বিক্ষোভ করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। এরপর নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে সীতাকুণ্ডের দিকে যান।

বিএনপি নেতা কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন মুঠোফোনে জানান, তারা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের জন্য কয়েক দিন আগে উপজেলা প্রশাসন ও থানা-পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী তাদের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছিল। তিনি অভিযোগ করেন, গতকাল সকাল থেকে আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা ককটেল ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের পূর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠানস্থল মুন স্টার ক্লাবে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে তাদের নেতা-কর্মীদের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করা হয়।

কাজী সালাউদ্দিন আরও বলেন, এই খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্থানে মিছিল করেন এবং এতে মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যায়। তবে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আসলাম চৌধুরীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মোহাম্মদ মোরসালিন।

মোহাম্মদ মোরসালিন জানান, তাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি মুন স্টার ক্লাবে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় তারা এল কে সিদ্দিকী স্কয়ারে কর্মসূচি শুরু করেন। তিনি আরও বলেন, তাদের নেতা-কর্মীরা কোথাও কোনো ককটেল বিস্ফোরণ কিংবা হামলা করেননি। উল্টো সালাউদ্দিনের অনুসারীরা বিভিন্ন স্থানে তাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।

সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর জানান, কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের অনুসারীরা মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। পুলিশ গিয়ে নেতা-কর্মীদের বুঝিয়ে মহাসড়ক সচল করে। এতে যানবাহন চলাচল প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ ছিল।

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহিনুল ইসলাম জানান, উভয়পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে, তবে আহত হওয়ার মতো বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটেনি। তিনি আরও বলেন, পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং উভয়পক্ষ এখন আলাদা স্থানে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান করছে। তার ভাষ্যমতে, রাস্তায় সর্বোচ্চ ২০ মিনিটের মতো ব্যারিকেড ছিল এবং অস্ত্রের মহড়ার মতো তেমন কিছু তাদের চোখে পড়েনি।

সংঘর্ষের জেরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় ১০ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়। শত শত দূরপাল্লার যানবাহন আটকে পড়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে পড়ে একটি ওষুধ কোম্পানির এক বিক্রয় প্রতিনিধিসহ কয়েকজন মারধরের শিকার হন বলে স্থানীয়রা জানান।

সংঘর্ষের সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ এবং দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। দুই নেতার অনুসারীরা ব্যানার-ফেস্টুন ছাড়াও বাঁশ, লাঠি ও লোহার রড নিয়ে মুখোমুখি হয়। একপক্ষ আরেক পক্ষের ব্যানার-ফেস্টুন কেড়ে নেয়।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...