সারাদেশ

অটোরিকশার ধাক্কায় পুলিশ কর্মকর্তার মেয়ে গুরুতর আহত

অটোরিকশার ধাক্কায় পুলিশ কর্মকর্তার মেয়ে গুরুতর আহত
অটোরিকশার ধাক্কায় পুলিশ কর্মকর্তার মেয়ে গুরুতর আহত
চট্টগ্রামে অটোরিকশার ধাক্কায় এক পুলিশ কর্মকর্তার তৃতীয় শ্রেণিপড়ুয়া মেয়ে গুরুতর আহত হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে অবৈধ যানের চলাচল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

গতকাল সোমবার দুপুরে খুলশি জালালাবাদ সোসাইটির ৩ নম্বর সড়কে এক পুলিশ কর্মকর্তার মেয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে। একটি দ্রুতগতির ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় তৃতীয় শ্রেণিপড়ুয়া নাওয়াল আনসারী রক্তাক্ত হয়। ঘটনাটি ঘটে তার বাসার প্রধান ফটকের সামনে।

নাওয়ালের বাবা আনসারুল করিম চট্টগ্রাম নগর পুলিশের গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগে কর্মরত। গতকাল বেলা দেড়টার দিকে স্কুল ছুটির পর তার মেয়ে ট্যাক্সি থেকে নেমে ভবনের গেটে পৌঁছানোর পরপরই দুর্ঘটনাটি ঘটে। দ্রুত ও বেপরোয়া গতিতে আসা একটি অবৈধ ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন অটোরিকশা তাকে ধাক্কা দেয়।

ধাক্কা লাগার পর ছোট্ট মেয়েটি ছিটকে রাস্তায় পড়ে যায়। নাওয়াল দুই হাত, মাথা, ঠোঁট, পুরো মুখমণ্ডল ও কপালে গুরুতর আঘাত পেয়েছে। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে প্রথমে জিইসি এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এই ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা আনসারুল করিম গতকাল রাত সাড়ে দশটার দিকে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “সকাল আটটায় আমি নিজেই আমার আদরের মেয়েটিকে স্কুলে নামিয়ে দিয়ে আসলাম। ক্লাস শেষ করে বেলা দেড়টার সময় ঠিক বাসার মেইন গেটের সামনে আসার পর গাড়ি থেকে নামা মাত্রই হঠাৎ বিদ্যুৎচালিত একটি অবৈধ ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন অটোরিকশা দ্রুত ও বেপরোয়া গতিতে এসে আমার অবুঝ মেয়েটাকে সজোরে ধাক্কা দিলে আমার ছোট্ট মেয়েটি ছিটকে রাস্তায় পড়ে যায়।”

তিনি আরও লেখেন, “সরকারি চাকরি করে নিজের অবুঝ সন্তানের নিরাপত্তা যেখানে আমরা নিশ্চিত করতে পারি না, সেখানে আমরা কীভাবে অন্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব, এটাই আমার প্রশ্ন।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি তার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

আজ মঙ্গলবার সকালে যোগাযোগ করা হলে আনসারুল করিম তার মেয়ের দুর্ঘটনার বিবরণ দেন। তিনি উল্লেখ করেন, এসব অটোরিকশার নির্দিষ্ট কোনো গতিসীমা নেই এবং চালকেরা অত্যন্ত বেপরোয়াভাবে যানবাহন চালান।

আনসারুল করিম অভিযোগ করেন, যে অটোরিকশাটি তার মেয়েকে ধাক্কা দিয়েছে সেটি ছিল অবৈধ ও নিবন্ধনবিহীন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশের মানুষ কত দিন অবৈধ অটোরিকশার চালকদের কাছে জিম্মি থাকবে। প্রশিক্ষণ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া এসব অটোরিকশা চালানোর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন প্রয়োগ হচ্ছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

পুলিশ কর্মকর্তা আনসারুল করিম বলেন, বড় ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হলেও অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল বন্ধ করা যাচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষের জীবন ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে নগরের কোথায় এসব অটোরিকশা চলতে পারবে, সে বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।

তার মতে, কোনো অটোরিকশা জব্দ হলে সেটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা উচিত। এর আগে তিনি খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির বিভিন্ন থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

চট্টগ্রাম নগরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কারণে দুর্ঘটনা নতুন কোনো ঘটনা নয়। বিভিন্ন সময়ে এসব অটোরিকশার ধাক্কায় কিংবা অন্য যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষে অনেকেই আহত হয়েছেন। কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

গত বছর নগরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছিল। পরে মহাসড়কে এসব যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হলেও নগরের ভেতরের সড়কে এগুলোর চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

অভিযানের পর নগরের অলিগলিতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল আরও বাড়ে। বর্তমানে সন্ধ্যার পর নগরের বিভিন্ন এলাকায় এসব অটোরিকশাকে মূল সড়কে উঠতে দেখা যায়। চকবাজার, ডিসি রোড, বাকলিয়া এক্সেস রোডসহ বিভিন্ন সড়কে রাতের দিকে এসব অটোরিকশার চলাচল চোখে পড়ে।

এতে এসব যান নিয়ন্ত্রণে চালানো অভিযান ও নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...