বিনোদন

সমালোচকদের বিচারে ‘জঘন্য’ সিনেমাটি বাংলাদেশে শীর্ষে, নেটফ্লিক্সে চমক

সমালোচকদের বিচারে ‘জঘন্য’ সিনেমাটি বাংলাদেশে শীর্ষে, নেটফ্লিক্সে চমক
সমালোচকদের বিচারে ‘জঘন্য’ সিনেমাটি বাংলাদেশে শীর্ষে, নেটফ্লিক্সে চমক
হোমি আদাজানিয়া পরিচালিত ‘ককটেল ২’ প্রেক্ষাগৃহে সমালোচিত হলেও নেটফ্লিক্সে বিশ্ব তালিকার চারে এবং বাংলাদেশে শীর্ষে অবস্থান করছে।

হোমি আদাজানিয়া পরিচালিত ‘ককটেল ২’ সিনেমাটি গত জুন মাসে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। সমালোচকেরা এটিকে ‘জঘন্য’ আখ্যা দিলেও এটি প্রেক্ষাগৃহে মোটামুটি ব্যবসা করেছিল। গত সপ্তাহে নেটফ্লিক্সে মুক্তির পর সিনেমাটি চমক দেখায়। প্ল্যাটফর্মটির বৈশ্বিক তালিকার অ-ইংরেজি শীর্ষ ১০ সিনেমার মধ্যে এটি চতুর্থ স্থানে রয়েছে এবং বাংলাদেশে শীর্ষে অবস্থান করছে।

‘ককটেল ২’ মুক্তি পেয়েছে প্রথম ‘ককটেল’ সিনেমার চৌদ্দ বছর পর। ২০১২ সালের ‘ককটেল’ সে সময়ের অন্যতম সফল রোমান্টিক ড্রামা ছিল। সাইফ আলী খান, দীপিকা পাড়ুকোন ও ডায়না পেন্টি সেই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। বন্ধুত্ব, প্রেম, সম্পর্কের টানাপোড়েন ও আধুনিক শহুরে জীবনের গল্প নিয়ে নির্মিত ছবিটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল।

প্রথম ছবিটি ইউ/এ সার্টিফিকেট পেলেও ‘ককটেল ২’ সরাসরি ‘এ’ সার্টিফিকেট পেয়েছে। নতুন ছবির গল্পে সম্পর্ক, আবেগ ও প্রাপ্তবয়স্ক বিষয়বস্তুর মাত্রা বেশি। এটি আগের গল্পের সরাসরি ধারাবাহিকতা না হয়ে একই আবেগ ও সম্পর্কের জটিলতাকে নতুন প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গিতে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। সিনেমাটি মূলত এই সময়ের সম্পর্কের গল্প বলে নির্মিত।

প্রথম ছবির আবহ ছিল বৃষ্টিভেজা ও কিছুটা বিষণ্ন লন্ডন। এবারের গল্পটি ইতালির সিসিলিতে চলে গেছে। রোদঝলমলে পাহাড়, সমুদ্র, বিলাসবহুল বাড়ি এবং ফ্যাশনেবল পোশাকে সিনেমাটি যেন শুরু থেকেই একটি ভ্রমণবিষয়ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিওর মতো দেখায়।

গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন কুনাল (শহীদ কাপুর) ও দিয়া (রাশমিকা মান্দানা)। তারা দীর্ঘ এক দশক ধরে একসঙ্গে থাকছে এবং তাদের সম্পর্ক দূরত্ব বা করোনাকালের কঠিন সময়েও ভাঙেনি। বিয়ের সামাজিক চাপও তাদের টলাতে পারেনি। তবে কুনালের একটি নিছক রসিকতা দিয়ার মনে সন্দেহের জন্ম দেয়।

কুনাল মজা করে দিয়াকে বলেছিল যে, সে যদি কখনো প্রতারণা করে, তবে দিয়া তা জানতে পারবে না। এই কথাটিই দিয়ার মনে সন্দেহের বীজ বুনে দেয়। পরে নিজেদের সম্পর্ক ঠিক করার জন্য তারা ইতালির সিসিলিতে ছুটি কাটাতে যায়। সেখানেই তাদের জীবনে প্রবেশ করে দিয়ার পুরোনো বন্ধু অ্যালি (কৃতি শ্যানন)।

অ্যালি স্বাধীনচেতা এবং বিয়ে বা স্থায়ী সম্পর্কে বিশ্বাসী নয়। সিসিলিতে সে নাচ শেখায় এবং এর আগে বারটেন্ডার হিসেবেও কাজ করেছে। দিয়ার মনে তখনো প্রশ্ন ছিল—কুনাল কি সত্যিই তাকে ভালোবাসে, নাকি এত দিনের সম্পর্কটা কেবল অভ্যাসে পরিণত হয়েছে?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে দিয়া একটি সিদ্ধান্ত নেয়, যা থেকে ছবির মূল সমস্যা শুরু হয়। দিয়া অ্যালিকে অনুরোধ করে কুনালকে প্রলুব্ধ করতে, যার উদ্দেশ্য ছিল কুনাল কতটা বিশ্বস্ত, তা পরীক্ষা করা। অর্থাৎ নিজের প্রেমিকের ভালোবাসার পরীক্ষা নিতে দিয়া অন্য এক নারীকে তার সামনে হাজির করে। অ্যালি প্রথমে অভিনয় করলেও ধীরে ধীরে সে কুনালের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে।

সমালোচকেরা ‘ককটেল ২’ নিয়ে নানা মন্তব্য করেছেন। আধুনিক প্রেমের গল্প হওয়ার চেষ্টা করলেও সিনেমাটি শেষ পর্যন্ত পুরুষতান্ত্রিক রোমান্টিক কল্পনার পুরোনো বোতলেই নতুন লেবেল লাগিয়েছে। একটি গণমাধ্যম লিখেছে, ছবিতে চাকচিক্য, তারকা ও বিদেশের লোকেশন থাকলেও প্রেমের স্বাদ বা প্রাণ নেই।

গণমাধ্যমটি আরও জানায়, ছবিটি নিজের প্রেম, ত্রিভুজ সম্পর্ক ও যৌন রাজনীতির খেলাটাকে সোজাসাপটাভাবে স্বীকার করলে হয়তো কিছুটা সম্মান পেত। কিন্তু নিজের ইচ্ছাগুলোকে স্বীকার না করে ছবিটি সেগুলোকে রোমান্টিকতার মোড়কে পরিবেশন করেছে। দিয়ার চরিত্রের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে, যেখানে তাকে এমন এক নারীতে পরিণত করা হয় যার আচরণ দর্শকের কাছে প্রায় অসহ্য লাগে। পুরুষ দর্শকদের কুনালের জায়গায় দাঁড়িয়ে নিজেকে ‘নির্যাতিত’ ও ‘মহৎ’ ভাবতে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

ছবিটিতে আকর্ষণীয় মোড়কে মোড়ানো পুরুষতান্ত্রিকতার প্রচার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন, এক রাতে অ্যালি কুনালকে উত্তেজিত করার জন্য অ্যাপার্টমেন্টে পোশাক ছাড়াই ঘুরে বেড়ায়। আবার দিয়া উত্তেজিত হয়ে অ্যালিকে ফোন করে জানতে চায়, তার দীর্ঘদিনের প্রেমিক কুনাল কি তার পরীক্ষায় ধরা পড়েছে, যেন সে অন্য কারও জীবনের রসালো গল্প শুনছে।

একটি ভারতীয় গণমাধ্যম সিনেমাটিকে ২.৫ স্টার দিয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে, ছবির মূল সমস্যাই এর গল্পের ভিত্তি। দিয়ার মনে সন্দেহ—তার লিভ-ইন সঙ্গী কুনাল তাকে সত্যিই ভালোবাসে কি না।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...