অনেক ব্যক্তি মনে করেন, ভালো চরিত্রের অর্থ শুধু পরকীয়ায় না জড়ানো বা ফ্লার্ট না করা। তবে মুখ খারাপ করা, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, আর্থিক নিপীড়ন—এসবকেও অনেক সময় খারাপ চরিত্রের অংশ হিসেবে দেখা হয় না। সমানে মানসিক চাপ (গ্যাসলাইটিং) তৈরি করলেও অনেকে ভালোবাসা আছে বলে ধরে নেন।
সমাজে অনেকে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে থাকেন এবং বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। এর ফলে তারা এমন কিছু মানুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বা বিয়ে করেন, যারা শুরুতে ভালো মানুষের অভিনয় করে। এসব সম্পর্ক একসময় নরকে পরিণত হয়।
এই ব্যক্তিরা প্রায়শই এমন সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন না, কারণ তাদের পারিবারিক পরিবেশও অনেক সময় বিষাক্ত হয়ে থাকে। তারা এই নতুন সঙ্গীদের উদ্ধারকর্তা হিসেবে দেখে, কারণ তারাই হয়তো প্রথম জীবনে কিছু মিষ্টি কথা বলে তাদের মুগ্ধ করে বা গুরুত্বপূর্ণ অনুভব করায়।
তবে এই মুগ্ধতা বা গুরুত্ব অনুভবের পেছনে কতটা অভিনয় থাকে, তা তারা একবারও ভাবেন না। তারা বিশ্বাস করতে পারেন না যে, এই ভালো মানুষের মুখোশের আড়ালে কতটা জঘন্য মানসিকতা লুকিয়ে থাকতে পারে।
যারা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী, তাদের ক্ষেত্রেও প্রশ্ন ওঠে কেন তারা এমন নিপীড়ক সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ক চালিয়ে যান। এই ধরনের আচরণ শুধু পুরুষরাই করে না, নারীরাও তাদের সঙ্গী ও সন্তানদের জীবন বিষিয়ে তোলে।
অনেক সময় কর্মজীবী ব্যক্তিরাও নিজেদের ভালো রাখার চেষ্টা না করে, তাদের সুখের সব দায়িত্ব স্বামী বা সঙ্গীর ওপর চাপিয়ে দেন। এর ফলে তারা নিজেরাও বিষাক্ত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।
এই ধরনের সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সাহস তারা পান না, কারণ তারা মনে করেন বাবা-মা মেনে নেবেন না বা তাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। বাবা-মায়ের অমতে বিয়ে করার কারণে তাদের জীবনের মূল্য কমে গেছে, এমন ভাবনাও অনেকে পোষণ করেন।
যারা নিজেদের সংসারী ভাবেন এবং সিন্ডারেলা সিনড্রোমে ভোগেন, তাদেরও বিষয়টি ভেবে দেখা উচিত। সংসার ও সন্তানের জন্য সব কিছু ছেড়ে দিয়ে ঘরে বসে থাকাটা অনেকের কাছে সঠিক মনে হতে পারে।
তবে, নিজের জীবনকে বিষিয়ে তুলে এবং কোনো বিকল্প না রেখে সম্পূর্ণভাবে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া এবং পরে স্বপ্নভঙ্গ হলে তাদের আর যাওয়ার জায়গা থাকে না। অর্থ বা অন্য কোনো সমর্থনের উৎস না থাকার কারণে তারা এমন এক সঙ্গীর সঙ্গে আটকে পড়েন, যার কারণে জীবন নরকের মতো মনে হয়।
এই পরিস্থিতিতে অনেকেই স্বেচ্ছায় নিজেদের স্বাধীনতা বিসর্জন দেন। তারা নিজেদের স্বাধীনতার চাবিকাঠি বদ চরিত্রের মানুষ এবং তাদের পরিবারের হাতে তুলে দেন, কোনো প্রকার প্রস্থানের পথ না রেখেই।



মতামত (0)