আন্তর্জাতিক

সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন শিগগিরই চালু হওয়ার সম্ভাবনা

সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন শিগগিরই চালু হওয়ার সম্ভাবনা
সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন শিগগিরই চালু হওয়ার সম্ভাবনা
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, হামলার পর বন্ধ হয়ে যাওয়া সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন শিগগিরই আবার চালু হতে পারে। এটি বৈশ্বিক তেল সরবরাহের ৪-৫ শতাংশ বহন করে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন শিগগিরই আবার চালু হতে পারে। হামলার পর বন্ধ হয়ে যাওয়া এই পাইপলাইনটি দ্রুতই সচল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। আজ মঙ্গলবার একটি আর্থিক সংবাদমাধ্যমকে তিনি এই তথ্য জানান।

গত সপ্তাহে হামলার পর এই গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এটি প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন করত, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ। হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে তেল পরিবহনের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।

রাইট জানান, জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা নতুন কোনো ঘটনা নয়। অতীতেও ইরান এ ধরনের হামলা চালিয়েছে এবং এসব পরিস্থিতিতে সৌদিরা নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা দেখিয়েছে। হামলার পর থেকেই তিনি সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

কারিগরি দলগুলো বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পর্যালোচনা করছে। কবে নাগাদ পাইপলাইনটি আবার চালু করা যাবে, সে বিষয়ে শিগগিরই আরো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে রাইট উল্লেখ করেন। ইয়েমেনের হাউছি বাহিনীর সাম্প্রতিক ভৌগোলিক নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির মধ্যেই এই বিঘ্ন ঘটেছে।

হাউছি বাহিনী লোহিত সাগরের কয়েকটি দ্বীপসহ পশ্চিম উপকূলের বেশ কয়েকটি জেলার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালীর মায়ুন দ্বীপও অন্তর্ভুক্ত। ইয়েমেনের আশপাশে নৌ চলাচল প্রসঙ্গে রাইট বলেন, অধিকাংশ বাণিজ্যিক ট্যাংকার বাব আল-মান্দাব দিয়ে যায় না।

এই ট্যাংকারগুলো বরং সুয়েজ খাল এবং মিসরে থাকা পাইপলাইন দিয়ে চলাচল করে। প্রতিদিন কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল তেল ওই এলাকা দিয়ে গেলেও বাব আল-মান্দাব প্রণালী প্রধানত বাণিজ্যিক ট্যাংকার দ্বারা ব্যবহৃত হয় না। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন এখনো অব্যাহত রয়েছে।

হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরস্পরবিরোধী দাবির মধ্যেও রাইট জানান, এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য এখনো পরিবহন হচ্ছে। তাঁর ভাষ্যমতে, গতকাল রাতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি ব্যারেল তেল ও তেলজাত পণ্য গেছে। সাত দিনের গড়ও প্রতিদিন ১ কোটি ব্যারেলের বেশি এবং তা বাড়ছে।

রাইট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হিসাব অনুমানের ওপর নয়, জাহাজের পণ্যতালিকার ওপর ভিত্তি করে করা হয়। তিনি প্রতিদিন সকালে প্রতিটি জাহাজের প্রতিবেদন পান, যেখানে জাহাজের নাম, পণ্যের বিবরণ এবং গন্তব্য উল্লেখ থাকে। বিশ্বজুড়ে শোধনাগারের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে পরিশোধিত তেলজাত পণ্যের রফতানি বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র ঘাটতি কমানোর চেষ্টা করছে। রাশিয়ার ডিজেল রফতানি ব্যাপক কমে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী চাপ আরো বেড়েছে বলেও তিনি জানান। একসময় বড় সরবরাহকারী রাশিয়া এখন একেবারেই ডিজেল রফতানি করছে না।

এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করতে বলেছিলেন। ট্রাম্পের দাবি, এসব হামলা বৈশ্বিক ডিজেল সংকট বাড়াচ্ছে। তিনি বলেন, জেলেনস্কিকে রাশিয়ায় ডিজেল জ্বালানি ধ্বংস করা বন্ধ করতে হবে কারণ সে ডিজেলের ঘাটতি তৈরি করছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...