আন্তর্জাতিক

সৌদি নেতৃত্বাধীন সামুদ্রিক জোটের কমান্ডার হিসেবে আল-শেহরির নিয়োগ

বাংলাদেশসহ ১৪ দেশের সমন্বয়ে গঠিত সৌদি নেতৃত্বাধীন সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটের কমান্ডার হিসেবে রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরিকে নিয়োগ দিয়েছে সৌদি আরব। এই জোট লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করবে।

বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশের সমন্বয়ে গঠিত সৌদি নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটের কমান্ডার হিসেবে রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরির নাম ঘোষণা করেছে সৌদি আরব। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এই জোটের মূল লক্ষ্য হলো লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দাব প্রণালি এবং এডেন উপসাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাও এই জোটের একটি প্রধান উদ্দেশ্য।

রিয়ার অ্যাডমিরাল আল-শেহরির রয়্যাল সৌদি নেভাল ফোর্সে ৩২ বছরের বেশি সামরিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড ও অপারেশনাল দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন।

এর আগে তিনি রয়্যাল সৌদি নেভাল ফোর্সেসের পরিকল্পনা, বাজেট ও বাহিনী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া স্পেনে নেভাল সুপারভিশন অ্যান্ড ফলো-আপ অফিসের নেতৃত্ব দেওয়া এবং সৌদি নৌবাহিনীর ‘সারাওয়াত প্রকল্প’ তদারকির দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বহুজাতিক নৌ সহযোগিতা, যৌথ অভিযান পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা সমন্বয়ের ক্ষেত্রে তার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই অভিজ্ঞতা তাকে জোটটির নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে।

আল-শেহরি সৌদি আরব ও স্পেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সম্পাদিত নির্বাহী চুক্তি বাস্তবায়নে গঠিত স্টিয়ারিং কমিটির সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিভিন্ন যৌথ নৌ মহড়া ও সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে অংশ নিয়েছেন।

তিনি মাদ্রিদের কমপ্লুতেন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিরক্ষা নীতি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্কুল থেকে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিষয়েও তার আরেকটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে।

এই ১৪ দেশের সামুদ্রিক জোট গঠনের ঘোষণা করা হয়েছিল গত ৩০ জুলাই। লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দাব প্রণালি ও এডেন উপসাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ গঠিত হয়।

জোটের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিসর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, বাংলাদেশ, ইয়েমেন, সুদান ও কমোরোস। এই দেশগুলো সম্মিলিতভাবে সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে কাজ করবে।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই জোটের উদ্দেশ্য হলো সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। এছাড়া, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নৌ অভিযান পরিচালনা করাও এর লক্ষ্য।

জোট গঠনের আলোচনায় অংশ নিতে ৫১টি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এর মধ্যে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধি বৈঠকে অংশ নেয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধিদলও ওই আলোচনায় উপস্থিত ছিল।

তবে কোন দেশ কতগুলো যুদ্ধজাহাজ বা সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে গঠিত নয়।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই জোটের প্রধান উদ্দেশ্য। সৌদি আরব এই জোটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে থাকছে।

জোটের প্রধান কার্যালয় সৌদি আরবেই স্থাপন করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে সদর দপ্তরের নির্দিষ্ট স্থান এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...