জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ছয় মাস পর তথ্য-উপাত্ত ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় দেখা গেছে, সরকার তিনটি অগ্রাধিকারের প্রতিটিতেই নিদারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। এই সম্মেলনে ‘বিএনপি সরকারের ১৮০ দিন: পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি থেকে পুরোনো রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন-অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, পরিকল্পনাহীনতা’ নামের একটি পুস্তিকা পড়ে শোনানো হয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রেখে যাওয়া সংস্কারগুলো একে একে বাতিল করা হয়েছে। মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ আইন এবং সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল ও অকার্যকর আইনে প্রতিস্থাপিত হয়েছে। বহুল প্রচারিত ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারকে উপেক্ষা করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে নির্লজ্জ দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতি ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে।
জুলাই গণহত্যার বিচার নিয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। সরকার নির্ধারিত অগ্রাধিকার পলিসিতে বিচার এবং শহীদ পরিবার ও আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন অনুপস্থিত। বিরোধী দল-মত ও সাংবাদিকদের ওপর সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের হামলা-মামলার ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে। এমনকি প্রশাসনের কর্মকর্তারাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
সিংহভাগ ক্ষেত্রেই হামলাকারীদের পরিবর্তে হামলায় আহতদের আইনিভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে বলে জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশকে ফের দলীয় বাহিনীতে পরিণত করা হচ্ছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার মধ্য দিয়ে সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও জুলাই সনদ ভঙ্গ করেছে।
বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মাথায় মার্চ ও এপ্রিল মাসে দেশের পাম্পগুলোতে ভয়াবহ পেট্রোল ও ডিজেল সংকট দেখা দেয়। পাম্পগুলোর সামনে গণপরিবহণ, প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। এক লিটার তেলের জন্য অনেককে টানা ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। এই সংকটের মধ্যেই সরকার জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণে বাড়ায়।
প্রতি লিটারে ডিজেলে ১৫ টাকা, অকটেনে ২০ টাকা, পেট্রোলে ১৯ টাকা এবং কেরোসিনে ১৮ টাকা বৃদ্ধি পায়। এর প্রভাবে গণপরিবহণ ও পণ্য পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধি পায়, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ে এবং কৃষি উৎপাদন ব্যয়ও বৃদ্ধি পায়। তিনি বলেন, এই সংকটের পেছনে সরকারি দলের স্থানীয় নেতাদের প্রশ্রয়ে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের ভূমিকা দেখা গেছে। পাম্পের ভূগর্ভস্থ ট্যাংকে তেল মজুদ রাখার ঘটনা স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও প্রশাসনিক অভিযানে উঠে এসেছে।



মতামত (0)