রাজনীতি

সরকারের অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি: নাহিদ ইসলাম

সরকারের অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি: নাহিদ ইসলাম
সরকারের অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি: নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিএনপি সরকার তাদের দেওয়া অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতার খতিয়ান তুলে ধরেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, বিএনপি সরকার তাদের দেওয়া অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই মন্তব্য করেন।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এনসিপির জরুরি সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। এই সংবাদ সম্মেলনটি সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতার খতিয়ান তুলে ধরার উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়েছিল।

নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, সরকার তাদের ১৮০ দিন অতিবাহিত করেছে এবং এই সময়ে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কেমন ছিল, সরকারের ব্যবস্থাপনা কী রকম ছিল, তা পর্যালোচনা করা হয়েছে। সরকার এই ১৮০ দিন উপলক্ষে নিজস্ব প্রেস ব্রিফিং এবং একটি ই-বুকও প্রকাশ করেছে, যেখানে তাদের কার্যক্রমের বিবরণ ছিল।

তবে, তিনি পর্যবেক্ষণ করেন যে, সরকার গঠনের শুরুতে যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার অধিকাংশই ১৮০ দিনের মধ্যে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। দেশে যে সংকট তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে সরকারের কোনো সুনির্দিষ্ট জবাবদিহিতা নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, সুনির্দিষ্ট ব্যর্থতা সত্ত্বেও সরকার নিজেদের সফলতা দাবি করছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে ১৮০ দিনের পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার দেওয়া তিনটি বিষয়েই তারা চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বিএনপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে একটি সুনির্দিষ্ট ১৮০ দিনের পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই পরিকল্পনায় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ এই তিনটি বিষয়কে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে জানান, বিগত ছয় মাসে সরকার এই তিনটি বিষয়ে নিদারুণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যের দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়কে উল্লেখযোগ্যভাবে ঊর্ধ্বমুখী করেছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নিত্যপণ্যের বাজারে অসাধু সিন্ডিকেটগুলো পুরোদমে সক্রিয় রয়েছে এবং তাদের কার্যক্রম অব্যাহত আছে। এছাড়া, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের তুলনায় বিগত ছয় মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান অবনতি হয়েছে।

বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাও ভয়াবহ বাজে পরিস্থিতিতে আছে বলে নাহিদ ইসলাম তার পর্যবেক্ষণে তুলে ধরেন। তিনি দেশের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, যার মধ্যে জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিকে প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

এই সরকার আসার পর থেকেই পাম্পগুলোতে ভয়াবহ পেট্রোল এবং ডিজেল সংকট শুরু হয়েছিল। সেসময় সাধারণ মানুষকে জ্বালানি সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা যায়, যা জনজীবনে ব্যাপক দুর্ভোগ সৃষ্টি করে।

সেসময় সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী দাবি করেছিলেন যে, দেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই এবং এগুলো পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। পরবর্তীতে সংসদে একটি কমিটি গঠন করে প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়, যেখানে বিরোধীদলও সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল।

নাহিদ ইসলাম জানান, বিরোধীদল থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা দেওয়া হলেও সে অনুযায়ী কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই সময়েই জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণে বাড়ানো হয়েছিল, যা সাধারণ মানুষের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করে।

তিনি মন্তব্য করেন, জ্বালানি ও অন্যান্য সংকটে স্থানীয় নেতাদের প্রশ্রয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল। এই সিন্ডিকেটগুলো পাম্পের ভূগর্ভস্থ ট্যাংকে তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছিল।

অভিজ্ঞতাহীন প্রভাবশালী গোষ্ঠী সরবরাহ ব্যবসায় প্রবেশ করে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। উচ্চ কমিশনে বিপিসি এবং পেট্রোবাংলার পাইকারি বিক্রি শুরু হয়েছিল, যা স্বচ্ছতার অভাবকে ইঙ্গিত করে।

নাহিদ ইসলাম পরিশেষে বলেন, জ্বালানি ক্রয়ে স্বচ্ছতার প্রশ্ন অনুপস্থিত ছিল এবং গড়ে ওঠা এই শক্তিশালী সিন্ডিকেট সরকার ভাঙতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...