ধর্ম

সুষ্ঠু শ্রমবাজার ও সিন্ডিকেটমুক্ত পরিবেশের দাবি জামায়াত আমিরের

সুষ্ঠু শ্রমবাজার ও সিন্ডিকেটমুক্ত পরিবেশের দাবি জামায়াত আমিরের
সুষ্ঠু শ্রমবাজার ও সিন্ডিকেটমুক্ত পরিবেশের দাবি জামায়াত আমিরের
জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমান একটি সুষ্ঠু ও সিন্ডিকেটমুক্ত শ্রমবাজারের দাবি জানিয়েছেন। তিনি মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে শ্রমিকদের সমস্যা এবং সিন্ডিকেটের প্রভাব নিয়ে কথা বলেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান একটি সুষ্ঠু শ্রমবাজারের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কোনো সিন্ডিকেট নয়, বরং একটি ন্যায্য শ্রমবাজারের পরিবেশ কাম্য। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলরুমে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এই বক্তব্য দেন। সেমিনারের বিষয় ছিল ‘সিন্ডিকেট ও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার : বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব’।

ডা: শফিকুর রহমান জানান, শুধু মালয়েশিয়া নয়, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি শ্রমিকরা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বৈধ ভিসাধারী বাংলাদেশী নাগরিকদের দুবাই বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তারা ভিসা অকার্যকর বলে কোনো কারণ ব্যাখ্যা না করেই তাদের ফেরত পাঠাচ্ছেন।

এইভাবে নাগরিকদের ফেরত পাঠানোকে তিনি শুধু চাকরির অধিকার হরণ নয়, দেশের জন্য অপমানজনক বলেও মন্তব্য করেন। তিনি মনে করেন, এই ধরনের ঘটনার পেছনে অবশ্যই কিছু কারণ রয়েছে এবং সেগুলো সমাধান করা সরকারের দায়িত্ব। সমস্যার সমাধান সপ্তাহ গড়িয়ে গেলেও না হওয়ায় তিনি সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

জামায়াত আমির কিছু ব্যক্তি, দল ও গোষ্ঠীর সমালোচনা করেন যারা ঘুষ ও জুলুম ছাড়া চলতে পারে না। তিনি বলেন, জাতি তাদের কাছে অসহায় হয়ে আত্মসমর্পণ করতে পারে না, বরং লড়াই করে নিজেদের অধিকার আদায় করতে হবে। তিনি বাঙালি জাতিকে বীরের জাতি হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

ডা: শফিকুর রহমান বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষমতা গ্রহণের আগে করা ওয়াদা অস্বীকার করার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, সরকার গণভোটের আহ্বান জানালেও এখন তা মানছে না এবং জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও রাখেনি। তিনি স্বাধীন বিচার বিভাগে তালা লাগানোর এবং দুদক, মানবাধিকার কমিশন ও নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন না করে দলীয় কর্মীকে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, প্রবাসীদের শুধু ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ বলা তাদের অধিকার না দিলে উপহাসের শামিল। প্রবাসীদের ভোটাধিকারের জন্য তারা লড়াই করে সফল হয়েছেন বলে জানান। এই লড়াইয়ে বিএনপিকে না পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির অনেক নেতাকর্মী প্রবাসীদের ভোট লাগবে না এমন মন্তব্য করেছেন।

বিরোধীদলীয় নেতা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার তিনবার বন্ধ হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, চতুর্থবার এটি বন্ধ হোক তা তারা চান না, কারণ এটি দেশের জন্য অপমানজনক। ডা: শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, মালয়েশিয়ার ‘ফ্যাসিস্ট আমলে’ গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট এখনো সক্রিয় আছে, যেখানে বাইরের রূপ বদলালেও ভেতরের ‘রূহ’ ঠিক আছে।

তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, "এই সিন্ডিকেটে আমার ভাই থাকলে তাকেও বের করে দেন।" তিনি কোনো সিন্ডিকেট চান না এবং সরকারের প্রতি এসব বন্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার উদাহরণ দিয়ে বলেন, তারা পারলে বাংলাদেশকেও পারতে হবে।

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, তারা শুনতে পেয়েছেন যে কোনো কোনো নেতা সিন্ডিকেটের সদস্যদের সাথে বৈঠক করেছেন। তিনি বলেন, "চব্বিশের পরে মানুষের ওপর জুলুম বহাল থাকবে তা কল্পনাও করি নাই।" তিনি উল্লেখ করেন, যারা বড় বড় কথা বলেন তারাই এখন এসবের সাথে যুক্ত। জামায়াত আমির জানান, তারা সাত দফার দাবিতে মাঠের আন্দোলনে আছেন এবং আগামীতে শ্রমিকদের অধিকারের দফা যুক্ত করে আট দফা করবেন।

তিনি বলেন, এসব জনগণের দাবি, কোনো গোষ্ঠী, দল বা ব্যক্তির দাবি নয়, কিংবা কাউকে বসানো বা সরানোর দাবিও নয়। বরং এটি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি। তিনি দৃঢ়তা প্রকাশ করেন যে এই দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরবেন না এবং জনগণের বিজয় হবে বলে তিনি আস্থাশীল। তিনি সরকারি দল বা বিরোধী দল কারো বিজয় চান না, জনগণের বিজয় চান।

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, তাদের রাজনীতি জনগণের জন্য, দেশের জন্য, নিজের জন্য নয়। তারা দেশে সেই রাজনীতিই বাস্তবায়ন করতে চান। তিনি বলেন, তারা উশৃঙ্খল বিরোধী দল হতে চান না, কলঙ্ক লেপন করতে চান না এবং আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে অনুগতও হবেন না। তিনি সঠিক জায়গায় কথা বলার এবং যা উচিত তাই বলার অঙ্গীকার করেন।

তিনি ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের মাধ্যমে জনগণের কথা বলা বন্ধ করার চেষ্টা করা হলে তাতে বাধা দেওয়ার কথা বলেন। মুক্ত কণ্ঠকে স্তব্ধ করার জন্য আইন করা হলে তা মানা হবে না বলে তিনি জানান।

জামায়াত আমির মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার সুস্পষ্ট দাবি জানান। তবে তিনি অসৎ কোনো ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠান যেন তাতে সুবিধা না পায় সে বিষয়ে সতর্ক করেন। তিনি ২৫টি এজেন্সিকে নির্বাচন করে তাদের অধীনে অন্যান্য এজেন্সিকে কাজ করার ব্যবস্থা এবং পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা এজেন্সিকে নির্বাচন করার সমালোচনা করেন।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, নিশ্চয়ই সরকারের সাথে জড়িত কেউ আছে, না হলে এটি কিভাবে সম্ভব। সরকারকে পরিষ্কার করতে হবে যে তারা জড়িত নয় এবং কোন যোগ্যতায় এসব এজেন্সিকে নির্বাচন করা হয়েছে। জনগণের দাবি হলো, কাজের প্রয়োজনে মানুষ বিদেশে যাবে, সরকার যেন শোষণের হাতিয়ার না চালায়।

তিনি বলেন, তারা এটি আর দেখতে চান না এবং সবকিছু স্পষ্ট থাকতে হবে। সরকারের প্রতি যত সহযোগিতা লাগে তা বিরোধী দল করবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ধরে রেখে জনগণকে শোষণের চেষ্টা করা হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...