ধর্ম২০২৭ সালের রমজান শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা
২০২৭ সালের রমজান শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা
জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাস ৮ ফেব্রুয়ারি, সোমবার থেকে শুরু হতে পারে। তবে চূড়ান্ত তারিখ নির্ভর করবে নতুন চাঁদ দেখার ওপর।
আগামী ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাস ৮ ফেব্রুয়ারি, সোমবার থেকে শুরু হতে পারে বলে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবে জানানো হয়েছে। তবে রমজান শুরুর চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হবে নতুন চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে এরই মধ্যে আগামী বছরের রমজান নিয়ে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
আজ, ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৪৪৮ হিজরি সনের রবিউস সানি মাসের চতুর্থ দিন। গত শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ১৪৪৮ হিজরি সনের রবিউস সানি মাস শুরু হয়েছে। এর ফলে রমজান মাস শুরু হতে আর প্রায় ১৪৬ দিন বাকি রয়েছে।
ইসলামি বর্ষপঞ্জি চন্দ্রনির্ভর হওয়ায় গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের একই তারিখে পরপর দুই বছর রমজান শুরু হয় না। ইসলামি বছর সাধারণত ৩৫৪ দিনের হয়, যা গ্রেগরিয়ান বছরের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন কম। এর ফলে প্রতিবছরই রমজান আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১০-১১ দিন আগে শুরু হয়।
এই ধারাবাহিক পরিবর্তনের কারণে প্রায় ৩৩ বছরের একটি চক্রে বিশ্বের মুসলমানরা বছরের বিভিন্ন ঋতুতে রমজান পালনের সুযোগ পান। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি, রোববার সন্ধ্যায় রমজানের নতুন চাঁদ দেখার চেষ্টা করা হবে। ওই সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা গেলে সেদিন রাত থেকেই প্রথম তারাবির নামাজ আদায় করা হবে।
চাঁদ দেখা গেলে পরদিন সকাল থেকে মুসলমানরা রোজা রাখা শুরু করবেন। তবে, ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা না গেলে রমজান শুরু একদিন পিছিয়ে যেতে পারে। তাই ৮ ফেব্রুয়ারির তারিখটি এখনো সম্ভাব্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রমজান মাস ২৯ অথবা ৩০ দিনের হতে পারে, যা শাওয়ালের নতুন চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে। এরপর শাওয়ালের নতুন চাঁদ দেখা গেলে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালে ঈদুল ফিতর সম্ভাব্যভাবে ১০ মার্চ, বুধবার হতে পারে। এই তারিখও চূড়ান্ত হবে চাঁদ দেখার পর।
রমজান ইসলামি বর্ষপঞ্জির নবম মাস এবং মুসলমানদের কাছে এটি বছরের অন্যতম পবিত্র সময়। এই মাসেই মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর পবিত্র কোরআনের প্রথম আয়াত নাজিল হয় বলে মুসলমানরা বিশ্বাস করেন। রমজান মাসে মুসলমানরা ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থেকে রোজা পালন করেন। একই সঙ্গে এ মাসে নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, দান-সদকা, আত্মসংযম এবং পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আধুনিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের মাধ্যমে নতুন চাঁদের অবস্থান ও দৃশ্যমানতার সম্ভাবনা আগেই নির্ণয় করা সম্ভব। তবে ইসলামি রীতি অনুযায়ী রমজানের আনুষ্ঠানিক সূচনা চাঁদ দেখার ওপরই নির্ভরশীল।
মতামত (0)