স্বাস্থ্য

ত্বকের ছত্রাক সংক্রমণ: কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা পদ্ধতি

ত্বকের ছত্রাক সংক্রমণ: কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা পদ্ধতি
ত্বকের ছত্রাক সংক্রমণ: কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা পদ্ধতি
গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ত্বকের ছত্রাক সংক্রমণ বা দাদ বৃদ্ধি পায়। এর কারণ, শরীরের কোন কোন স্থানে এটি বেশি হয়, লক্ষণ এবং উপযুক্ত চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা বৃদ্ধি পায়। এর মধ্যে দাদ একটি পরিচিত চর্মরোগ। এটি ডার্মাটোফাইট নামক এক প্রকার ছত্রাকের কারণে হয় এবং এটি ছোঁয়াচে।

ত্বকে লালচে বা বাদামী রঙের গোলাকার, চাকতির মতো দাগ বা ফুসকুড়ি এর প্রধান বৈশিষ্ট্য। আক্রান্ত স্থানের কিনারা সাধারণত সামান্য উঁচু ও স্পষ্ট থাকে, তবে মাঝের অংশ তুলনামূলকভাবে কম আক্রান্ত বা স্বাভাবিক দেখা যেতে পারে।

ছত্রাক সাধারণত উষ্ণ, আর্দ্র এবং ঘামযুক্ত পরিবেশে দ্রুত বিস্তার লাভ করে। এ কারণে কুঁচকি, ঊরুর ভাঁজ, বগল এবং স্তনের নিচের অংশে এর সংক্রমণ বেশি দেখা যায়। হাত-পায়ের আঙুলের ফাঁকেও এই ধরনের সংক্রমণ পরিলক্ষিত হয়।

কুঁচকিতে হওয়া সংক্রমণকে সাধারণত ‘জক ইচ’ বলা হয়, আর পায়ের সংক্রমণ ‘অ্যাথলেটস ফুট’ নামে পরিচিত। শিশুদের মাথার ত্বক ও চুলেও ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে। এছাড়া, যেকোনো বয়সের মানুষের নখেও এই ধরনের সংক্রমণ দেখা যেতে পারে।

ছত্রাক সংক্রমণের জন্য পরিবেশগত কারণগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় ভেজা পোশাক পরিধান করা এই রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। ত্বকের ভাঁজে আর্দ্রতা ও ঘর্ষণের কারণেও সংক্রমণ বৃদ্ধি পেতে পারে।

আক্রান্ত ব্যক্তির তোয়ালে, পোশাক, জুতা, বিছানার চাদর বা অন্যান্য ব্যক্তিগত সামগ্রী ব্যবহার করলেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে। ডায়াবেটিস, স্থূলতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়াও কিছু ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। দীর্ঘদিন অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক বা স্টেরয়েড ব্যবহারের কারণেও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

ছত্রাক সংক্রমণের অন্যতম প্রধান উপসর্গ হলো তীব্র চুলকানি। এর সঙ্গে আক্রান্ত স্থানে লালচে বা বাদামী দাগ, খসখসে ত্বক এবং চামড়া ওঠা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় জ্বালাপোড়া বা ত্বকে ফাটলও সৃষ্টি হয়।

শরীরের দাদের ক্ষেত্রে দাগটি ধীরে ধীরে বাইরের দিকে বড় হতে থাকে। নখে সংক্রমণ হলে নখ মোটা, বিবর্ণ এবং ভঙ্গুর হয়ে ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।

তবে একজিমা, অ্যালার্জি এবং সোরিয়াসিসসহ বিভিন্ন চর্মরোগে একই ধরনের উপসর্গ দেখা যেতে পারে। তাই শুধু উপসর্গ দেখে নিজে নিজে ছত্রাকের ওষুধ শুরু করা উচিত নয়।

ছত্রাক সংক্রমণের চিকিৎসা নির্ভর করে সংক্রমণের ধরন, স্থান এবং বিস্তৃতির ওপর। ত্বকের সীমিত সংক্রমণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উপযুক্ত অ্যান্টিফাঙ্গাল ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করা হয়।

সংক্রমণ বেশি ছড়িয়ে পড়লে, বারবার হলে অথবা মাথার ত্বক ও নখ আক্রান্ত হলে মুখে খাওয়ার অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে।

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া স্টেরয়েডযুক্ত ক্রিম বা স্টেরয়েড-অ্যান্টিফাঙ্গাল মিশ্রিত ক্রিম ব্যবহার করা উচিত নয়। এসব ক্রিমে সাময়িকভাবে চুলকানি কমলেও সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর ফলে রোগের প্রকৃতি পরিবর্তিত হয়ে চিকিৎসা আরও জটিল হতে পারে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...