জাতীয়

অর্থ আত্মসাতের মামলায় বিদিশা সিদ্দিকের জামিন নামঞ্জুর

অর্থ আত্মসাতের মামলায় বিদিশা সিদ্দিকের জামিন নামঞ্জুর
অর্থ আত্মসাতের মামলায় বিদিশা সিদ্দিকের জামিন নামঞ্জুর
ফ্ল্যাট বিক্রির নামে ৭৫ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিদিশা সিদ্দিকের জামিন আবেদন আজ বুধবার নামঞ্জুর করেছেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ। বর্তমানে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।

ফ্ল্যাট বিক্রির নামে ৭৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিদিশা সিদ্দিকের জামিন আবেদন আজ বুধবার নামঞ্জুর করেছেন আদালত। ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো: শাহজাহান কবিরের আদালতে আপিল শর্তে বিদিশার আইনজীবী জামিন চেয়ে এই আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে আদেশ দেন।

বর্তমানে বিদিশা সিদ্দিক কারাগারে আটক রয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশান-২ নম্বরের অ্যারাবিকা রেস্টুরেন্ট থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সাজা পরোয়ানা জারির ভিত্তিতে এই গ্রেফতার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

আজ থেকে দুই দিন আগে সোমবার পুলিশ বিদিশাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে। ওই সময় তার আইনজীবী আপিল শর্তে জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ বিদিশার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গত ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো: জামসেদ আলম অর্থ আত্মসাতের এই মামলায় বিদিশাকে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছিলেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক মাস কারাভোগ করতে হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছিল। এই মামলায় বিদিশা সিদ্দিক এর আগে জামিনে ছিলেন, যা ২০১৫ সালের ৬ ডিসেম্বর বাতিল হয়েছিল।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বাদী মোশাররফ হোসেন মিরপুর-১০ এলাকার স্যানিটারি পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী। ২০০১ সালে রাজধানীর বারিধারা এলাকায় একটি ফ্ল্যাট কেনার উদ্দেশ্যে তিনি বিদিশা সিদ্দিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট ৮০ লাখ টাকায় বিক্রির জন্য উভয়ের মধ্যে চুক্তি হয়।

২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা বাদীকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন। সেখানে তিনি তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করেন এবং উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদন গ্রহণ করে বাকি টাকা পরিশোধের পর ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন।

পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বাদীকে ৭৫ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে বিদিশা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি তদন্ত শেষে একই বছরের ২২ জুন পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০০৯ সালের ৯ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কনিকা বিশ্বাস বিদিশা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলার বিচার চলাকালে আদালতে মোট সাতজন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...