শিক্ষা২৪৬ কারিগরি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বন্ধ, আরও ১১২ প্রতিষ্ঠানে পদক্ষেপ
২৪৬ কারিগরি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বন্ধ, আরও ১১২ প্রতিষ্ঠানে পদক্ষেপ
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ২৪৬টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বন্ধ করেছে। টানা তিন বছর শিক্ষার্থী না থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আরও ১১২টি প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের পদক্ষেপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড দেশের ২৪৬টি বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩৭টি ডিপ্লোমা পর্যায়ের এবং ১০৯টি এইচএসসি (বিএমটি—বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি) পর্যায়ের। টানা তিন বছর ধরে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন বলেছেন, নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি স্থগিত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, একই ধরনের আরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে পর্যায়ক্রমে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এছাড়াও আরও ১১২টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তি স্থগিত করাসহ পাঠদানের অনুমোদন বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ১১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ডিপ্লোমা পর্যায়ের ৮৬টি এবং এইচএসসি (বিএমটি) পর্যায়ের ২৬টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এসব প্রতিষ্ঠানকে পাঠদানের অনুমোদন কেন বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশের জবাব আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে দিতে বলা হয়েছে। জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানেও টানা তিন বছর ধরে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি।
এর আগে একই ধরনের অভিযোগে ভোকেশনাল শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাকারী ৬২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠানেও দীর্ঘদিন ধরে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি বা শিক্ষা কার্যক্রম ছিল না। এর মধ্যে ৪৪৩টি প্রতিষ্ঠানে এসএসসি (ভোকেশনাল) এবং ১৭৮টিতে দাখিল (ভোকেশনাল) পাঠদানের অনুমোদন রয়েছে।
কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গতকাল বুধবার বলেছেন, ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব অনেক প্রতিষ্ঠান দিয়েছে। তবে কিছু প্রতিষ্ঠান এখনো জবাব দেয়নি। এখন এগুলোর একটি তালিকা তৈরি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে এসব প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমোদন বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের রেকর্ড অনুযায়ী, ভোকেশনাল শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন পাওয়া দেশের ৩ হাজার ৪৪০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬২১টিতে ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সূত্র জানায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমোদনের শর্তে বলা আছে, কোনো প্রতিষ্ঠানে পরপর তিন বছর শিক্ষার্থী ভর্তি না হলে তার পাঠদানের অনুমোদন বাতিল করা হবে। ডিপ্লোমা পর্যায়ের বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান ও স্বীকৃতি দেওয়া-সংক্রান্ত নীতিমালা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে বোর্ড সরকারের অনুমোদন নিয়ে পাঠদানের অনুমতি বাতিল করতে পারে। এসব শর্তের মধ্যে ফলাফল, অবকাঠামো, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, ব্যবস্থাপনা কমিটি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি ও লাইব্রেরি অন্তর্ভুক্ত।
কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া ডিপ্লোমা পর্যায়ের ৮৬টি প্রতিষ্ঠানের একটি হলো রংপুরের মহাদেবপুর এলাকার মেট্রোপলিটন প্রাইভেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক নুরুল ইসলাম মুঠোফোনে জানিয়েছেন, গত তিন শিক্ষাবর্ষ ধরে তাঁদের প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। তবে এর আগে ভর্তি হওয়া কিছু শিক্ষার্থী এখনো পড়াশোনা করছে। তিনি আরও বলেছেন, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে তাঁরা এখনো কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ পাননি।
বর্তমানে দেশে এইচএসসি (বিএমটি) পর্যায়ে প্রায় ১ হাজার ৯০০টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। ডিপ্লোমা পর্যায়ে শিক্ষা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৬০০টি। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুন মাস পর্যন্ত দেশে মোট ১২ হাজার ৯৩২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কারিগরি শিক্ষা দেওয়া হয়।
সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষায় শিক্ষার্থীর হার ৩০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বর্তমানে চার বছর মেয়াদি ১০ ধরনের ডিপ্লোমা কোর্স চালু রয়েছে। এর মধ্যে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। এটি ৩২টি ট্রেডে পরিচালিত হলেও সব প্রতিষ্ঠানে সব ট্রেড নেই।
দেশে বর্তমানে ৫৬টি সরকারি ও ৬১২টি বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে এসব কোর্স পরিচালিত হয়। বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোতে ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি আসন থাকলেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মাত্র ৩০ হাজার ৬১৪ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ভোকেশনাল শিক্ষা চালু থাকলেও সেখানেও আসন পূরণ হচ্ছে না। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কারিগরি শিক্ষায় মোট ১৯ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি আসন থাকলেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় পৌনে ১০ লাখ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে।
মতামত (0)