জাতীয়আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় হাইকোর্টে পিছিয়ে সোমবার
আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় হাইকোর্টে পিছিয়ে সোমবার
মাগুরার আট বছর বয়সী শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় ঘোষণা পিছিয়ে আগামী সোমবার নতুন দিন ধার্য করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মাগুরার আট বছর বয়সী শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় ঘোষণার তারিখ পিছিয়ে আগামী সোমবার ধার্য করা হয়েছে। আসামী হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর এই রায় ঘোষণা হওয়ার কথা ছিল। মঙ্গলবার এই মামলার রায়ের দিন ধার্য ছিল।
হাইকোর্টের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক আদালতে জানান, এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানি করেছেন এবং তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন।
রায় ঘোষণার তারিখ পেছানোয় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন শিশু আছিয়ার মা মোছাঃ আয়েশা বেগম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "মামলা দেড় বছর হয়ে গেছে, আর কত পিছাবে জানি না, সরকার আমার সাথে মনে হয় নাটক করতেছে না হলে কি করতে রায় পেছালো। সরকার যদি ফাঁসির রায় না দিতে পারে তাহলে ওদের ছেড়ে দিক। আমার বিচার ওপরে আল্লাহ করবেন।" তিনি আরও বলেন, "সরকার আমার সাথে মনে হয় নাটক করতেছে।"
আদালতে আসামীপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।
গত বছরের ৫ মার্চ মাগুরা সদর উপজেলায় শিশু আছিয়ার নির্মম ঘটনাটি ঘটে। রমজানের ছুটিতে শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে আট বছর বয়সী শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়। বোনের শ্বশুর হিটু শেখ মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন এবং হত্যারও চেষ্টা চালান।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শিশুটির মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ পরবর্তীতে তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করে।
২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল পুলিশ আলোচিত এই মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২৭ এপ্রিল। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।
গত বছরের ৭ মে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে আলোচিত এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। একই বছরের ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালতে মামলার শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়।
যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত বছরের ১৭ মে রায় ঘোষণা করা হয়। মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামী হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ড দেন। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
রায়ে বাকি তিন আসামীকে খালাস দেওয়া হয়। খালাসপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন- নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীব শেখের ছোট ভাই (১৭) এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০)।
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ হলে তা অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় কার্যক্রম উচ্চ আদালতে প্রেরণ করতে হয়। সে অনুসারে এই মামলার নথিও গত বছরের ২১ মে উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে সব যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুক তৈরির জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়।
প্রস্তুত হওয়ার পর পেপারবুক গত বছরের ৮ জুন হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর শুনানির জন্য বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যতালিকাভুক্ত হয়।
মতামত (0)