অর্থনীতিআদমদীঘির হাট-বাজারে সবজির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি
আদমদীঘির হাট-বাজারে সবজির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে ফসলি ক্ষেত ডুবে যাওয়ায় সবজির দাম ব্যাপক হারে বেড়েছে। সাধারণ মানুষ ও নিম্ন আয়ের ক্রেতারা এতে চরম বিপাকে পড়েছেন।
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে সম্প্রতি শাক-সবজির দামে ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটেছে। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে ফসলি মাঠে পানি জমে যাওয়ায় এবং শাক-সবজি ক্ষেত ডুবে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে বাজারে সবজির সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হয়েছে এবং দাম বেড়েছে।
হঠাৎ করে সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা চরম বিপাকে পড়েছেন। শাক-সবজির পাশাপাশি কাঁচা মরিচের দামও অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। প্রতিটি সবজিতে কেজি প্রতি দাম ৩০ টাকা থেকে শুরু করে ৬০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
মঙ্গলবার আদমদীঘি উপজেলা সদরের হাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাটে প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি আমদানি হয়েছে। আমদানিতে কোনো কমতি না থাকলেও সবজির দাম তুলনামূলকভাবে বেশি। একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে উপজেলার সান্তাহার রাধাকান্ত হাট, ছাতিয়ানগ্রাম হাট, নশরতপুর হাট, কুন্দগ্রাম হাট এবং চাঁপাপুর হাটসহ অন্যান্য স্থানীয় বাজারগুলোতে।
গত এক সপ্তাহ আগেও প্রতি কেজি আলু ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল। বর্তমানে সেই আলু প্রতি কেজি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা প্রায় ১৬০ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি। পোটলের দাম প্রতি কেজি ২০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ টাকায় পৌঁছেছে, যা ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
করলার ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধি আরও বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি করলা ৪০ টাকা দরে বিক্রি হলেও, এখন তা ১০০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। এটি প্রায় ১৫০ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি। ঝিঙা প্রতি কেজি ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকা হয়েছে, যা ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি দেখায়।
বেগুন প্রতি কেজি ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এই সবজিটির দামও ১৫০ শতাংশ বেড়েছে। পালন শাক, কলমি শাক, লাল শাক, পুঁই শাক এবং পাট শাকসহ বিভিন্ন ধরনের শাকের দাম কেজি প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
কাঁচা মরিচের দামের উল্লম্ফন ছিল সবচেয়ে বেশি। গত এক সপ্তাহ আগেও কাঁচা মরিচ ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল। বর্তমানে ক্রেতাদের সেই কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১৫০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে, যা প্রায় ২৭৫ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি। এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার উপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
মঙ্গলবার আদমদীঘি হাটে আসা ভ্যান চালক আবুল হোসেন এবং জীবন বর্মন তাদের অর্থনৈতিক সংকটের কথা জানান। তারা বলেন, সবজির দাম যে হারে বেড়েছে, তাতে তাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষজন চরম বিপাকে পড়েছেন। তাদের দৈনিক আয় দিয়ে শুধু চাল কিনতেই অধিকাংশ অর্থ ব্যয় হয়ে যাচ্ছে।
টমটম চালক উজ্জল হোসেন ও অর্পব সরকারও একই ধরনের মন্তব্য করেন। তারা বলেন, প্রতিদিনের আয়ে চাল কেনার পর শাক-সবজি কেনার মতো সামর্থ্য থাকছে না। এই পরিস্থিতি তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে।
সবজি বিক্রেতা আলীবর, আজিজুল এবং আরও কয়েকজন মূল্যবৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করেন। তারা জানান, সম্প্রতি টানা বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষকদের অনেক ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। ফসলের এই ক্ষতি সরাসরি হাট-বাজারের দামের উপর প্রভাব ফেলেছে। কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ চেইন প্রভাবিত হয়েছে।
মতামত (0)