জাতীয়আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাতারাতি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বৈপ্লবিক পরিবর্তন সম্ভব নয়। তিনি ছয় মাসের সরকারি কার্যক্রম ও বাহিনীর আধুনিকায়নের কথা উল্লেখ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন যে, রাতারাতি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। গত বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর নয়াপল্টনে অবস্থিত বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠানে তিনি এই বিষয়ে তার মতামত ব্যক্ত করেন। তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং জনসাধারণের উচ্চ প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনা করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে যে ধরনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পেয়েছে এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিদ্যমান ছিল, তা সামগ্রিকভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। একইসাথে, জনগণের পক্ষ থেকে যে আকাশসম উচ্চতার প্রত্যাশা রয়েছে, সেটিকেও গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সব উপাদান একসঙ্গে মূল্যায়ন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে।
সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আধুনিকায়ন, তাদের সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধি এবং তাদেরকে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করার মতো কাজগুলো একসঙ্গে করে যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই প্রক্রিয়াগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে যাতে বাহিনীর সক্ষমতা ও জনসেবামূলক মনোভাব উভয়ই বৃদ্ধি পায়। তিনি উল্লেখ করেন, এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া যা সময়সাপেক্ষ।
সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে গত ছয় মাসের কার্যক্রমের একটি চিত্র তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, এই সময়ে এমন কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়নি যা পুলিশ বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত করে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয়েছে। সংঘটিত প্রতিটি অপরাধীকে দ্রুততার সাথে বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি জানান এবং এটিকে বর্তমান সরকারের একটি বড় কৃতিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।
পুলিশ বাহিনীসহ সকল শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ভূয়সী প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাদের ভঙ্গুর মনোবল এবং নাজুক অবস্থা থেকে মাত্র ছয় মাসের মধ্যে একটি উন্নত অবস্থানে আনা সম্ভব হয়েছে। তাদের মনোবল এখন ফিরে এসেছে এবং তারা সম্পূর্ণ শক্তি ও নিষ্ঠার সাথে অপরাধ দমনে সচেষ্ট হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রংপুরের একটি আলোচিত ঘটনার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেই ঘটনা সংঘটিত হওয়ার যৌক্তিক সময়ের মধ্যেই জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তিনি আরও জানান, রামিসা হত্যাসহ জাতীয়ভাবে আলোচিত বা অনালোচিত প্রতিটি অপরাধের বিষয়ে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রতিটি অপরাধের সঠিক তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে আরও বলেন, ক্ষেত্রবিশেষে সরকারের চাহিদা অনুসারে সংক্ষিপ্ত সময়ে বিচারিক কার্যক্রম সমাপ্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, এই অল্প সময়ের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি থেকে এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করা ঠিক হবে না। তবে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী অচিরেই জনপ্রত্যাশিত ও জনবান্ধব বাহিনীতে পরিণত হবে।
অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আইনি কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে তাদের জবাবদিহিতা ও কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। ভালো কাজের জন্য বাহিনীর সদস্যদের নিয়মিতভাবে পুরস্কার, অ্যাওয়ার্ড, সনদ ও পদক প্রদান করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন, যা তাদের উৎসাহিত করছে।
তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন কেউ আশা করতে পারে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে, প্রধানমন্ত্রী এবং তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমন একটা পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব হবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণের সকল প্রত্যাশা পূরণ হবে এবং এই বাহিনী জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করবে।
সর্বশেষে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি সকল নাগরিককে অন্তত তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। তিনি আশ্বস্ত করেন, সরকার সবসময় জনগণের সঙ্গে আছে এবং তাদের পাশে থাকবে।
মতামত (0)