অর্থনীতি

আন্তবিশ্ববিদ্যালয় নাট্য প্রতিযোগিতায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি চ্যাম্পিয়ন

আন্তবিশ্ববিদ্যালয় নাট্য প্রতিযোগিতায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি চ্যাম্পিয়ন
আন্তবিশ্ববিদ্যালয় নাট্য প্রতিযোগিতায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি চ্যাম্পিয়ন
ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের আয়োজনে ‘ড্রামা কার্নিভাল ২.০’-তে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ‘গরু’ নাটক নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) আয়োজিত আন্তবিশ্ববিদ্যালয় নাট্য প্রতিযোগিতা ‘ড্রামা কার্নিভাল ২.০’-তে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি। গত ২০ আগস্ট ইউএপির নিজস্ব ক্যাম্পাসে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। দেশের মোট ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যদল এতে অংশগ্রহণ করে।

ইউএপি নাট্য ক্লাব এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি মলয় ভৌমিকের রচনা অবলম্বনে ‘গরু’ নাটকটি মঞ্চস্থ করে। দেবদ্যুতি আইচের নির্দেশনায় নির্মিত এই নাটকটি তাদের চ্যাম্পিয়নশিপ এনে দেয়। দলটির নেতৃত্বে ছিলেন জারিন সুবাহ সারা মনি।

‘পদ্মাবতী’ নাটক মঞ্চায়নের জন্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ প্রথম রানার-আপের স্থান অর্জন করে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি কালচারাল ক্লাব ‘রেইনকোট’ নাটক পরিবেশন করে দ্বিতীয় রানার-আপ হয়। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থী ব্রিন্তা রায় মিশমি ‘গরু’ নাটকে অভিনয়ের জন্য ‘শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী’র পুরস্কার লাভ করেন।

‘গরু’ নাটকটির পরিচালক দেবদ্যুতি আইচ জানান, বিশ্বজুড়ে মানুষ জাতিসত্তা, জাতীয়তা, ধর্ম এবং সামাজিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভক্ত। তিনি উল্লেখ করেন, যেসব বিষয় মানুষের সৌন্দর্য ও শক্তির উৎস হতে পারতো, সেগুলোই অনেক সময় অবিশ্বাস ও সংঘাতের কারণ হয়ে ওঠে। ক্ষমতাবানরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য ধরে রাখতে এসব বিভাজনকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে কাজে লাগিয়েছে।

দেবদ্যুতি আইচ আরও বলেন, এর ফলে মানুষের অভিন্ন মানবিক পরিচয় ঢাকা পড়ে যায়। ‘গরু’ নাটকে এই বাস্তবতাই তুলে ধরা হয়েছে। পরিকল্পিত বিভাজন কীভাবে মানুষকে একে অপরের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, নাটকটি সেই চিত্র উপস্থাপন করে। একইসঙ্গে সব বিভেদের আড়ালে থাকা মানুষের মৌলিক মানবিক সত্তার কথাও মনে করিয়ে দেয় এই নাটক।

দলের নেতা জারিন সুবাহ সারা মনি জানান, তাদের নাটকটির মাধ্যমে সহজে কীভাবে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করা যায়, তা দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নীরবতা কীভাবে সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দেয়, তাও নাটকে তুলে ধরা হয়েছে। জারিন সুবাহ সারা মনি মনে করেন, নাটক যতটা গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে, ততটা গুরুত্ব সাধারণত পায় না।

তিনি উল্লেখ করেন, সংগীত ও চলচ্চিত্রের মতো অন্যান্য শিল্পমাধ্যমও মানুষের আবেগে প্রভাব ফেলে। তবে সামাজিক নানা বিষয় তুলে ধরার ক্ষেত্রে নাটকের ভূমিকা বিশেষ। নাটক সত্যকে সরাসরি দর্শকের সামনে উপস্থাপন করে। এখানে কোনো পর্দা থাকে না, যার আড়ালে কোনো কিছু লুকানো যায় না।

জারিন সুবাহ সারা মনি বলেন, এ কারণে দর্শকের সহজে চোখ ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ কম থাকে এবং অনুভূতিও আরও তীব্র হয়। তাই নাট্যচর্চাকে লালন ও সমর্থন করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। যেসব বিষয় নিয়ে মানুষ সাধারণত কথা বলতে চায় না, সেগুলো নিয়ে কথা বলার অন্যতম সৎ মাধ্যম হলো নাটক।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...