সারাদেশ

মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ও স্বীকারোক্তি

মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ও স্বীকারোক্তি
মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ও স্বীকারোক্তি
সিলেটে দুই শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল আদালতে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

সিলেট সদর উপজেলার পীরের বাজার এলাকার একটি মাদ্রাসার হিফজ শাখার দুই শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ফয়জুল হক নামে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরাণ (রহ.) থানা পুলিশ গতকাল বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ভোর ৬টার দিকে জৈন্তাপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর গতকাল বুধবার সকাল ১১টার দিকে অভিযুক্ত ফয়জুল হককে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করা হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদালতে ফয়জুল হক ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের জবানবন্দি দিয়েছেন। এই জবানবন্দিতে তিনি ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেছেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে এই অভিযোগের শিকার হওয়া দুই শিশু শিক্ষার্থীও বিচারকের কাছে তাদের নিজ নিজ বক্তব্য উপস্থাপন করেছে। তাদের বক্তব্য বিচারক রেকর্ড করেছেন।

পুলিশ এবং শিশুদের পরিবারের দেওয়া তথ্যানুসারে, যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া ওই দুই শিশুর বয়স আট থেকে দশ বছরের মধ্যে। তারা পীরের বাজার এলাকার ওই মাদ্রাসার হিফজ শাখায় পড়াশোনা করত। সম্প্রতি ওই দুই শিশু মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে ফেরার পর সেখানে আর যেতে চাইছিল না। তাদের অস্বাভাবিক আচরণ দেখে অভিভাবকেরা কারণ জানতে চান।

অভিভাবকদের বারবার জিজ্ঞাসাবাদের পর শিশুরা শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ করে। শিশুদের অভিযোগ ছিল যে, প্রায় প্রতিরাতেই তাদের শিক্ষক ফয়জুল হকের কক্ষে যেতে বাধ্য করা হতো। সেখানে যেতে তারা অস্বীকৃতি জানালে তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো। মারধরের শিকার হওয়ার পর তারা বাধ্য হয়ে শিক্ষকের কক্ষে যেত।

শিক্ষকের কক্ষে যাওয়ার পর তাদের সঙ্গে অসদাচরণ ও যৌন নির্যাতন করা হতো বলেও তারা পরিবারের কাছে অভিযোগ করে। শিশুদের কাছ থেকে এই গুরুতর অভিযোগ পাওয়ার পর পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পুলিশকে জানায় এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিশুদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর এবং ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষক ফয়জুল হক মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যান। তিনি তার নিজ উপজেলা জৈন্তাপুরে চলে গিয়েছিলেন আত্মগোপনের উদ্দেশ্যে। পরে সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরাণ (রহ.) থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল ভোরে জৈন্তাপুর এলাকায় অভিযান চালায়। এই অভিযানেই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম এই বিষয়ে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত তথ্য জানান। তিনি বলেন, পীরের বাজার এলাকার একটি মাদ্রাসার দুই শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলা দায়েরের পরই পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে।

মো. মনজুরুল আলম আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষককে আদালতে হাজির করা হলে তিনি বিচারকের সামনে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। একই সঙ্গে অভিযোগের শিকার দুই শিশুও বিচারকের কাছে তাদের বক্তব্য রেকর্ড করিয়েছে। এই ঘটনার আইনি প্রক্রিয়া এখন চলমান রয়েছে।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফয়জুল হক শিশুদের সঙ্গে যৌন নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নারীদের প্রতি অনাগ্রহের কথা উল্লেখ করে শিশুদের সঙ্গে এমন আচরণের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে পুলিশের কাছে দেওয়া এই বক্তব্যকে আপাতত কথিত স্বীকারোক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে এবং মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে। এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...