সারাদেশ

চেতনানাশক খাইয়ে বন্ধুকে হত্যা, গ্রেপ্তার একজন

চেতনানাশক খাইয়ে বন্ধুকে হত্যা, গ্রেপ্তার একজন
চেতনানাশক খাইয়ে বন্ধুকে হত্যা, গ্রেপ্তার একজন
বগুড়ায় ফল ব্যবসায়ী ওয়াহেদ হোসেন ওরফে নিঝুমকে চেতনানাশক খাইয়ে হত্যার অভিযোগে নাজিম উদ্দিন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধার নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

বগুড়ায় ফল ব্যবসায়ী ওয়াহেদ হোসেন ওরফে নিঝুমকে হত্যার অভিযোগে নাজিম উদ্দিন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নাজিম উদ্দিন তাঁর বন্ধু ওয়াহেদকে কর্মস্থলে ডেকে নিয়ে কোমল পানীয়র সঙ্গে চেতনানাশক ও বিষাক্ত দ্রব্য মিশিয়ে পান করান। মৃত্যুর পর ওয়াহেদের লাশ বস্তায় ভরে বগুড়া শহরের একটি এলাকায় ফেলে রাখা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাজিম এই হত্যাকাণ্ডে নিজের ও বন্ধু মো. স্বপনের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

পুলিশের দাবি, ধার নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁরা ওয়াহেদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ওয়াহেদ তাঁর মায়ের নামে একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে সাত লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। সেই ঋণের মধ্যে দুই লাখ টাকা স্বপনকে এবং এক লাখ টাকা নাজিমকে ধার দেন। টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল।

ওয়াহেদ নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর গত ১২ আগস্ট বগুড়া শহরের মালগ্রাম মধ্যপাড়া দীঘিপাড় এলাকার একটি ধানখেত থেকে বস্তাবন্দী একটি অর্ধগলিত অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ওয়াহেদের স্বজনেরা লাশটি শনাক্ত করেন।

প্রায় এক মাস পর আজ বৃহস্পতিবার ওয়াহেদের ভাই সোহেল হোসেন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে বগুড়া সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর কাহালু উপজেলার মদনাই গ্রাম থেকে নাজিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নাজিমের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, হত্যার পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৭ আগস্ট দুই বন্ধু ওয়াহেদকে মালগ্রাম এলাকায় ওই বেসরকারি সংস্থার কার্যালয়ে ডেকে নেন। সেখানে নাজিম তাঁর মুঠোফোনে ইন্টারনেটে অজ্ঞান করার ওষুধের নাম খোঁজেন। পরে কোমল পানীয়র সঙ্গে চেতনানাশক ও বিষাক্ত দ্রব্য মিশিয়ে ওয়াহেদকে পান করানো হয়।

একপর্যায়ে ওয়াহেদ মারা গেলে রাতে তাঁর লাশ বস্তায় ভরে ঘটনাস্থল থেকে কিছু দূরে একটি ধানখেতে ফেলে রাখা হয়। পরদিন ৮ আগস্ট সকালে নাজিম ও স্বপন তাঁদের কর্মক্ষেত্র থেকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।

ওয়াহেদ নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিল। গত ১২ আগস্ট লাশ উদ্ধারের পর প্রথমে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। পরে স্বজনেরা লাশ শনাক্ত করেন। এরপর মৃত ব্যক্তির মুঠোফোন বিশ্লেষণ করে পুলিশ নাজিম ও স্বপনের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পায়।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত করে নাজিম ও স্বপনকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নাজিমকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর কাছ থেকে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে নাজিমকে আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড চাইলে বগুড়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলাম পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম জানান, নাজিমকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং স্বপনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ জানান, নাজিম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের আগে ইন্টারনেটে অজ্ঞান করার ওষুধের নাম খোঁজার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হত্যায় ব্যবহৃত দ্রব্য, হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ ও স্বপনের ভূমিকা সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে তদন্ত চলছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...