জাতীয়

বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকারসহ দুজন আটক

বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকারসহ দুজন আটক
বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকারসহ দুজন আটক
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৪৭৫ দশমিক ৬ গ্রাম স্বর্ণালংকারসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে এপিবিএন। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের বাজারমূল্য ৭৫ লাখ টাকার বেশি।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৪৭৫ দশমিক ৬ গ্রাম স্বর্ণালংকারসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। উদ্ধার করা এই স্বর্ণালংকারের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭৫ লাখ ৬২ হাজার ৪০ টাকা। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত প্রতিটি স্বর্ণালংকার ২১ ক্যারেটের এবং এর মোট ওজন প্রায় ৪০ দশমিক ৭৮ ভরি।

আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন খায়রুল হাসান আকন, যার বয়স ২৯ বছর, এবং শেখ আরিফুল ইসলাম, যার বয়স ৪৬ বছর। তাদের দুজনকে গতকাল মঙ্গলবার বিমানবন্দরের বহুতল কার পার্কিং এলাকা থেকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

এয়ারপোর্ট এপিবিএন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে এই ঘটনাটি ঘটে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুতল কার পার্কিংয়ের নিচতলার বাইরের গেটে ওই দুই ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা গিয়েছিল।

এপিবিএনের সদস্যরা তাদের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিলেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আটক ব্যক্তিরা সুকৌশলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করার চেষ্টা করেন। তবে এপিবিএনের চৌকস সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের আটক করতে সক্ষম হন এবং তাদের হেফাজতে নেন।

আটকের পর পরই তাদের শরীর তল্লাশি করা হয়। এই তল্লাশির সময় তাদের কাছ থেকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে লুকানো অবস্থায় মোট ৪৭৫ দশমিক ৬ গ্রাম স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া প্রতিটি স্বর্ণালংকার ২১ ক্যারেটের খাঁটি সোনা বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, এই স্বর্ণালংকারগুলো বিভিন্ন দেশ থেকে আনা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা যাত্রীদের মাধ্যমে এসব স্বর্ণালংকার বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হয় বলে তারা উল্লেখ করেছেন।

এপিবিএনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, চোরাচালানের উদ্দেশ্যেই এই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ তাদের হেফাজতে রাখা হয়েছিল। আটককৃতরা দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দরকেন্দ্রিক স্বর্ণ চোরাচালানের সক্রিয় সদস্য হিসেবে জড়িত। তাদের সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে আরও তদন্ত চলছে।

এই ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার বিমানবন্দর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার এজাহারে আটক দুজনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, তারা অজ্ঞাতনামা যাত্রীদের সহযোগিতায় পরস্পর যোগসাজশে অবৈধ পন্থায় চোরাচালানের উদ্দেশ্যে স্বর্ণ নিয়ে এসেছেন। এর মাধ্যমে তারা সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন এবং নিজেদের হেফাজতে অবৈধ স্বর্ণ রেখেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আটককৃতদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ২৫বি(১)(বি)/২৫-ডি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এই আইন চোরাচালানের মতো গুরুতর অপরাধ দমনের জন্য কঠোর বিধান রাখে।

এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট (১৩) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের পুলিশ সুপার (অপারেশন্স) মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন একটি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, "বিমানবন্দর এলাকায় চোরাচালানসহ অন্যান্য অপরাধ দমনে এয়ারপোর্ট এপিবিএন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।"

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন আরও উল্লেখ করেন, "স্বর্ণ ও মাদক চোরাচালানের অপতৎপরতা রোধে এপিবিএন বদ্ধপরিকর।" তিনি দৃঢ়তার সাথে জানান, বিমানবন্দরকে ব্যবহার করে যেকোনো ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...