সারাদেশ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অনশনে চেয়ারম্যানের পদত্যাগ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অনশনে চেয়ারম্যানের পদত্যাগ
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অনশনে চেয়ারম্যানের পদত্যাগ
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোস্টাল স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ ও অপসারণ দাবিতে শতাধিক শিক্ষার্থীর অনশনের পর চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেন।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হকের পদত্যাগের দাবিতে শতাধিক শিক্ষার্থী অনশন করেছেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তিনি বিভাগের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তার পদত্যাগের পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন।

গত রোববার সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা হাফিজ আশরাফুল হকের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, তিনি স্বেচ্ছাচারিতা করেন, কোর্সে নাম থাকলেও নিজে ক্লাস নেন না এবং পরীক্ষা না নিয়ে পছন্দ অনুযায়ী নম্বর দেন। ওই দিন শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে বিভাগের চেয়ারম্যানের অফিসকক্ষে তালা দেন এবং তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।

গত রোববার শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের দপ্তরে অবস্থান নেন এবং চব্বিশ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে কর্মসূচি শেষ করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হওয়ায় গতকাল সোমবার দুপুর ১২টা থেকে তারা উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেন। বিভাগটির প্রায় ১৩০ জন শিক্ষার্থী এই অনশনে অংশ নেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী তামিম রহমান আশিক জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা অনশন চালিয়ে যাওয়ার সংকল্প নিয়েছিলেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে হাফিজ আশরাফুল হক গত রোববার বলেছিলেন, মূলত শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক সংকটের কারণেই এই জটিলতা দেখা দিয়েছে। তিনি শিক্ষার্থীদেরকে আন্দোলনের এমন কঠোর পন্থা অবলম্বন না করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিভাগ চালুর পর থেকে হাফিজ আশরাফুল হক প্রায় ১০ বছর ধরে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন এবং দীর্ঘদিন একই পদে থাকার কারণে তিনি স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠেছেন।

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, বিভাগে মাত্র পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন। এর মধ্যে হাফিজ আশরাফুল হক চেয়ারম্যানের পাশাপাশি জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন, সিন্ডিকেট সদস্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার একাধিক প্রশাসনিক দায়িত্বের কারণে তার নামে থাকা কোর্সগুলো সময়মতো শেষ হয় না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি এক থেকে দেড় বছরের সেশনজট তৈরি হয়েছে।

২০১৭ সালে বিভাগটি চালু হলেও এ পর্যন্ত মাত্র দুটি ব্যাচের শিক্ষার্থীরা স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষা কার্যক্রম শেষ করেছেন। বাকি আটটি ব্যাচ এখনো চলমান। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী নাজমুল হোসেন বলেন, কয়েক দফা আলোচনা করেও কোনো সমাধান না হওয়ায় তারা অনশনে বসেছেন।

গতকাল সোমবার সকাল ৯টায় শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কাছে দাবি-সংবলিত স্মারকলিপি জমা দেন। এতে দুপুর ১২টার মধ্যে দাবি মেনে নেওয়ার সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় তারা আমরণ অনশন শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদি হাসান জানান, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে এবং দ্রুত বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।

গতকাল সোমবার রাত ১০টার দিকে হাফিজ আশরাফুল হক চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "আমি চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছি।" তার পদত্যাগের ঘোষণার পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন।

আন্দোলন প্রত্যাহারের সময় শিক্ষার্থীরা জানান, চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করায় তারা অনশন প্রত্যাহার করছেন। তবে হাফিজ আশরাফুল হককে দিয়ে কোনো ধরনের ক্লাস বা পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী নাইমুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের এই দাবিটিও নিশ্চিত করেছে।

শিক্ষার্থীরা এক মাসের মধ্যে হাফিজ আশরাফুল হককে বিভাগ থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। নাইমুর রহমান আরও বলেন, এই এক মাসের মধ্যে তাকে অপসারণ করা না হলে তারা আবারও আন্দোলনে নামবেন। এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. মামুন অর রশিদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...