রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছি বাজারে পুলিশ ও কৃষি কর্মকর্তারা ১৯ বস্তা সার উদ্ধার করেছেন। আজ সোমবার দুপুরের পরে মো. লাকির কীটনাশকের দোকান থেকে এসব সার বিসিআইসির মূল পরিবেশকের গুদামে ফিরিয়ে আনা হয়। উদ্ধারকৃত সারের মধ্যে ১৫ বস্তা নতুন তোলা সার ছিল এবং আগে থেকেই লাকির দোকানে আরও ৪ বস্তা সার মজুত ছিল। মো. লাকি আইনত সার বিক্রির অনুমোদন রাখেন না।
অভিযোগ উঠেছে, মো. লাকি চারজন ভুয়া কৃষকের নাম ব্যবহার করে ১৫ বস্তা সার উত্তোলন করেছিলেন। গতকাল রোববার (৩০ আগস্ট) তিনি ভুয়া কৃষকের নামে মেমো সংগ্রহ করেন। আজ বেলা তিনটার দিকে তিনি মেসার্স জনতা হার্ডওয়্যার, বিসিআইসি অনুমোদিত সার পরিবেশক, থেকে সার তুলতে যান। এই সারগুলোর মধ্যে ছিল চার বস্তা ইউরিয়া, সাত বস্তা এমওপি, পাঁচ বস্তা টিএসপি এবং তিন বস্তা ডিএপি।
সার উত্তোলনের সময় স্থানীয় লোকজন আপত্তি তোলেন। একজন কৃষককে এক বস্তাও সার দেওয়া হচ্ছে না, অথচ লাকি ভ্যানভরে ১৫ বস্তা সার নিচ্ছেন, এমন অভিযোগ করে তারা প্রতিবাদ জানায়। এ নিয়ে সেখানে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। জাকির হোসেন নামের একজন স্থানীয় অটোচালক প্রতিবাদ জানালে তাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয়দের আপত্তি সত্ত্বেও সারভর্তি ভ্যানটি পরিবেশকের গুদামের ভেতর থেকে মো. লাকির বাদশা এন্টারপ্রাইজে নিয়ে যাওয়া হয়। জাকির হোসেন বলেন, “কৃষক চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছে না, কিন্তু লাকি ভুয়া মেমো দিয়ে ১৫ বস্তা সার নিয়ে গেল। এই অন্যায় আমরা সহ্য করব না। এ জন্যই আমি প্রতিবাদ করেছি।”
খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণকারী কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান এবং পবা থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা সব শুনে মো. লাকির দোকান থেকে সার ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেন। এরপর পুলিশ ও কৃষি কর্মকর্তারা মোট ১৯ বস্তা সার বিসিআইসির মূল পরিবেশকের গুদামে ফিরিয়ে আনেন।



মতামত (0)