শিক্ষা

ডাকসু’র দুটি সাহিত্য স্মারকগ্রন্থ ‘বহুমাত্রিক’ ও ‘হাতেখড়ি’র মোড়ক উন্মোচন

ডাকসু’র দুটি সাহিত্য স্মারকগ্রন্থ ‘বহুমাত্রিক’ ও ‘হাতেখড়ি’র মোড়ক উন্মোচন
ডাকসু’র দুটি সাহিত্য স্মারকগ্রন্থ ‘বহুমাত্রিক’ ও ‘হাতেখড়ি’র মোড়ক উন্মোচন
গতকাল সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) দুটি নতুন সাহিত্য স্মারকগ্রন্থ, ‘বহুমাত্রিক’-২০২৫ এবং ‘হাতেখড়ি’-২০২৫, উন্মোচন করেছে। অবাঙালি মাতৃভাষার সংরক্ষণ ও নবীন লেখকদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এই গ্রন্থ দুটি প্রকাশিত হয়েছে।

গতকাল সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে দুটি সাহিত্য স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে রাত ১০টার দিকে এই মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান হয়। ডাকসু সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ স্মারকগ্রন্থ দুটি সম্পাদনা করেছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ এবং এজিএস মহিউদ্দিন খান। এছাড়াও ডাকসুর কোষাধ্যক্ষ ড. মোশাররফ হোসেন মুন্নাসহ হল সংসদ ও অন্যান্য ডাকসু নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মোড়ক উন্মোচিত গ্রন্থ দুটি হলো অবাঙালি মাতৃভাষার স্মারকগ্রন্থ ‘বহুমাত্রিক’-২০২৫ এবং ডাকসু লেখালেখি ও নাট্য কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের লেখায় স্মারকগ্রন্থ ‘হাতেখড়ি’-২০২৫। ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ডাকসু যে সকলের জন্য কাজ করে, এটি তার একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

জিএস ফরহাদ আরও উল্লেখ করেন, চাকমা, মারমা, ম্রো ইত্যাদি যে সকল ভাষা চর্চার অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে, সেগুলোকে ডাকসুর মাধ্যমে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ‘বহুমাত্রিক’ প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের কর্মশালার মাধ্যমে লেখালেখি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের লেখা নিয়ে ‘হাতেখড়ি’-২০২৫ প্রকাশিত হয়েছে। এটি শিক্ষার্থীদের লেখক হয়ে ওঠার প্রেরণা দিতে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।

ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, তারা শুরুতেই সাহিত্য-সংস্কৃতিতে সকলের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করার কথা বলেছিলেন। এই তাগিদে বাংলা ও ইংরেজি ভাষার সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ভাষাগুলোতেও সাহিত্যচর্চা জরুরি ছিল। তিনি নিজে কথা বলে দেখেছেন যে, এই জনগোষ্ঠীর অনেক শিক্ষার্থী নিজ মাতৃভাষার লিখিত রূপ জানেন না।

মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ আরও জানান, এরকম গুরুত্বপূর্ণ চাকমা, ম্রো, সাঁওতাল ইত্যাদি ভাষার ছোটগল্প, প্রবন্ধ, কবিতা ইত্যাদি নিয়ে অবাঙালি মাতৃভাষার স্মারকগ্রন্থ ‘বহুমাত্রিক’-২০২৫ প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই ভাষাগুলো আমাদের দেশেরই, অথচ চর্চার অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে।

‘হাতেখড়ি’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি লেখালেখি কর্মশালা করা হয়েছিল, যেখানে দীর্ঘ একমাস ধরে লেখালেখির ওপর গাইডলাইন দেওয়া হয়। সেই গাইডলাইন অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা নিজেদের লেখালেখিকে সমৃদ্ধ করতে লেখা জমা দেন। সেই লেখাগুলো বাছাই করে ডাকসু লেখালেখি ও নাট্য কর্মশালা স্মারকগ্রন্থ ‘হাতেখড়ি’-২০২৫ প্রকাশ করা হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, যেহেতু নবীন লেখককে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই বইটি প্রকাশিত হচ্ছে, সেজন্য স্মারকগ্রন্থটির নাম ‘হাতেখড়ি’ দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই নবীন লেখকরা পাঠকের বিপুল উৎসাহ পাবেন এবং একদিন একজন পরিপক্ব লেখকে পরিণত হবেন।

মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ ডাকসু থেকে মোট ২৭টি গ্রন্থ সম্পাদনা করে প্রকাশ করেছেন। গ্রন্থ দুটিতে সহ-সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন আসিফ আব্দুল্লাহ, ফাতিমা তাসনিম জুমা, মাহিয়া বিনতে মামুন, রিয়াদুল ইসলাম যুবা, রিজওয়ান য্যুবরান মানসূরী, নুসরাত জাহান, সায়মুম ফেরদৌস, আসফাকউল্লাহ আসিফ এবং সুহাইল মাহদীন।

‘হাতেখড়ি’ স্মারকগ্রন্থ ব্যবস্থাপনা ও কর্মশালার সার্বিক দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশ সাহিত্যকেন্দ্রের সভাপতি কবি আফসার নিজাম এবং নটনাট্যের সভাপতি নাট্য নির্দেশক হুসনে মোবারক।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...