প্রযুক্তি

ঢাকায় শুরু হলো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রযুক্তি প্রদর্শনী

ঢাকায় শুরু হলো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রযুক্তি প্রদর্শনী
ঢাকায় শুরু হলো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রযুক্তি প্রদর্শনী
রাজধানীতে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এক্সপো শুরু হয়েছে। এতে দেশ-বিদেশের প্রায় ১৫০টি প্রতিষ্ঠান আধুনিক নিরাপত্তা ও সাইবার সুরক্ষা প্রযুক্তি প্রদর্শন করছে।

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) তিন দিনব্যাপী ‘ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি এক্সপো এবং অকুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড ফায়ার এক্সপো’ শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তৈরি নিরাপত্তা পণ্য ও সাইবার নিরাপত্তা প্রযুক্তি এখানে তুলে ধরা হচ্ছে।

দেশের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা পণ্য নির্মাতা, সরবরাহকারী, আমদানিকারক, সফটওয়্যার ও সাইবার নিরাপত্তা খাতের উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ দিতে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। আই-স্টেশন লিমিটেড ও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) যৌথভাবে এর আয়োজক। বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এই আয়োজন আগামী শনিবার পর্যন্ত চলবে।

বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুর রহমান প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজন জাতীয় নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। এটি শুধু প্রযুক্তির প্রদর্শন নয়, বরং নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি, নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং সরকারি-বেসরকারি খাতে অংশীদারি বৃদ্ধির একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম। তিনি বিদেশি নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্কে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান। সরকার দেশের ইলেকট্রনিক ও সাইবার নিরাপত্তায় বিদেশি সুরক্ষা শিল্প খাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অংশীদারি গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির মহাসচিব মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, দেশের দ্রুত ডিজিটালাইজেশন ও শিল্পায়নের সঙ্গে নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি আরও জোরদার করতে হবে। নিরাপত্তা এখন শুধু ভবন বা সম্পদ রক্ষার বিষয় নয়; মানুষের নিরাপত্তা, তথ্য, ডিজিটাল ব্যবস্থা, ব্যবসা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সুরক্ষাও এর অংশ। তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা শুধু নিয়ম মেনে চলার বিষয় নয়, এটি মানুষ, ব্যবসা ও দেশের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। এই প্রদর্শনীতে প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি নিরাপত্তা ও সুরক্ষা পণ্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নতুন ব্যবসায়িক যোগাযোগ তৈরি হবে।

আই-স্টেশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মধু সুদন সাহা বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় স্মার্ট ও সংযুক্ত প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এই বাস্তবতায় প্রদর্শনীটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, একই সঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য অকুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড ফায়ার এক্সপো ২০২৬-তে শিল্প ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তার বিভিন্ন আধুনিক সমাধান তুলে ধরা হবে।

বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সহসভাপতি মো. ওয়াহিদুল হাসান বলেন, বাংলাদেশের দ্রুত ডিজিটালাইজেশন, শিল্পায়ন ও নগরায়ণের সঙ্গে নিরাপত্তা ও কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষার গুরুত্বও বাড়ছে। নিরাপত্তা এখন শুধু ভবন বা ভৌত সম্পদ রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ডিজিটাল নিরাপত্তা, তথ্য, নেটওয়ার্ক, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, ব্যবসা ও মানুষের নিরাপত্তাও এর অংশ। তিনি আরও জানান, অগ্নিনিরাপত্তা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি এবং আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তিতে বিনিয়োগকে ব্যয় নয়, বরং মানুষ, ব্যবসার ধারাবাহিকতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে।

মো. ওয়াহিদুল হাসান স্মার্ট নজরদারি, সাইবার নিরাপত্তা, অগ্নিনিরাপত্তা, অ্যাকসেস কন্ট্রোল ও সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দেশে বড় সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তবে দক্ষ জনবলের ঘাটতি, সচেতনতার অভাব, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের অসম প্রয়োগ ও প্রযুক্তির ব্যয়কে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি। বিসিএস সরকার, ব্যবসায়ী ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে সমন্বয় করে জ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তি গ্রহণ এবং নতুন অংশীদারত্ব তৈরিতে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি জানান।

আয়োজকেরা জানিয়েছেন, প্রদর্শনীতে ১০টি দেশের প্রায় ১৫০টি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান নিজেদের তৈরি হালনাগাদ প্রযুক্তি ও প্রযুক্তিপণ্য প্রদর্শন করছে। শুধু পণ্য প্রদর্শন নয়, আয়োজনে নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং শিল্প খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুটি সেমিনার আয়োজন করা হবে। এর মধ্য দিয়ে প্রযুক্তির সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ ও সুরক্ষা খাতসংশ্লিষ্টদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং এবং কার্যকর সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...