ধর্ম

ধর্মকে পুঁজি করে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে: প্রতিমন্ত্রী অমিত

ধর্মকে পুঁজি করে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে: প্রতিমন্ত্রী অমিত
ধর্মকে পুঁজি করে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে: প্রতিমন্ত্রী অমিত
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, ধর্মকে পুঁজি করে সস্তা রাজনীতির মাধ্যমে দেশে বিভাজন বা সামাজিক অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা প্রতিহত করা হবে। গত শুক্রবার যশোরের জন্মাষ্টমী অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, ধর্মকে পুঁজি করে বিভাজন বা সামাজিক অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা প্রতিহত করা হবে। যারা সস্তা রাজনীতির মাধ্যমে দেশে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করবে, তাদের সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ করা হবে। ধর্মবিশ্বাস বা রাজনৈতিক দর্শন নির্বিশেষে এই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্র ও সরকারের পাশাপাশি সামাজিকভাবেও এই অপচেষ্টা রুখে দেওয়া হবে। গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি যশোর জেলা, সদর উপজেলা ও পৌর পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজন করে।

যশোর শহরের মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দানে জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ধর্ম নিছক বিশ্বাস ও চেতনার বিষয়, এটি রাজনীতির মাঠে অনৈতিক সুবিধা লাভের হাতিয়ার হতে পারে না। জন্মাষ্টমী কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি গভীর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আধ্যাত্মিক চেতনায় উজ্জীবিত হওয়ার দিন।

প্রতিমন্ত্রী অমিত তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ধর্মবিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে কোনো মানুষ যেন পিছিয়ে না পড়ে, আবার কেউ যেন অতিরিক্ত সুবিধাও না পায়, সরকার তা নিশ্চিত করতে চায়। তিনি বলেন, মানুষকে মানুষ হিসেবে চিনতে শেখার শিক্ষা তার রাজনৈতিক দল বিএনপি দিয়েছে। এ কারণে তারা ক্ষমতায় থাকলেও মানুষের পাশে থাকেন, ক্ষমতায় না থাকলেও মানুষের পাশে থাকেন।

তিনি দ্বাপর যুগের অন্ধকারাচ্ছন্ন ও পাপাচারময় সময়ে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের কথা স্মরণ করেন। মথুরার কংসের কারাগারে বন্দিদশার সেই কঠিন সময়ে তার জন্ম এই বার্তা দেয় যে, রাতের অন্ধকার যত গভীরই হোক, ন্যায়ের পথ ধরে মুক্তির আলো আসে। এটাই পরম সত্য বলে তিনি মন্তব্য করেন। সমাজ থেকে সত্য ও বিশ্বাস হারিয়ে গেলেও আশা হারাবে না বলে প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সত্য উন্মোচন, পরস্পরের মধ্যে বিশ্বাস ও ভালোবাসা সৃষ্টি এবং ব্যক্তিগত কিংবা গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সেই আশার আলো জ্বালাতে হবে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানও এই শিক্ষা দিয়েছে বলে তিনি জানান। বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় সংসদে বলেছিলেন, কারও ধর্মবিশ্বাস কিংবা রাজনৈতিক দর্শন বিবেচ্য নয়; বাংলাদেশ ভূখণ্ডে বসবাসকারী সবার পরিচয় বাংলাদেশি।

তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিজেদের দুর্বল না ভাবার আহ্বান জানান। প্রতিমন্ত্রী অমিত আরও বলেন, সরকারের একজন প্রতিনিধি হিসেবে যশোরের মাটিতে তার যতখানি অধিকার রয়েছে, এখানকার সাধারণ মানুষেরও ঠিক ততখানি অধিকার রয়েছে।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম এবং যশোরের পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসান বক্তব্য দেন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন বক্তব্য রাখেন।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার ঘোষের সঞ্চালনায় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি গোলাম রেজা দুলু, পৌরসভার সাবেক মেয়র মারুফুল ইসলাম, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের যশোর জেলা শাখার আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট দেবাশীষ দাস এবং রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশন যশোরের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দজী মহারাজ।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...