ধর্ম

ইসলামে উত্তম আচরণের গুরুত্ব ও নির্দেশনা

ইসলামে উত্তম আচরণের গুরুত্ব ও নির্দেশনা
ইসলামে উত্তম আচরণের গুরুত্ব ও নির্দেশনা
ইসলামে বয়স, লিঙ্গ, ধর্ম বা গোত্র নির্বিশেষে সবার সঙ্গে পরিশীলিত সামাজিক আচরণ বজায় রাখাকে মৌলিক শিক্ষা হিসেবে দেখা হয়। এটি ইমানের অন্যতম প্রধান অংশ।

বয়স, লিঙ্গ, ধর্ম বা গোত্র নির্বিশেষে মানুষের সঙ্গে চমৎকার ও পরিশীলিত সামাজিক আচরণ বজায় রাখা ইসলামের অন্যতম মৌলিক শিক্ষা। বিশেষ করে তরুণ সমাজের জন্য শিষ্টাচার ও ভালো চরিত্র গঠন করা ইমানের এক অন্যতম প্রধান অংশ। সামাজিক মেলামেশায় পরিশীলিত আচরণ বজায় রাখা একজন সচেতন মুসলিমের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

সুন্দর আচরণ করার শিক্ষা বিশ্বজনীন। এই শিষ্টাচার দৈনন্দিন জীবনচর্চায় স্থান পাওয়া উচিত। এর মধ্যে রয়েছে অন্যের প্রতি সম্মান, কাজে দয়াশীলতা, অনুপযুক্ত আচরণ পরিহার করা এবং মার্জিত ভাষার ব্যবহার। এমন একটি সামাজিক পরিবেশ তৈরি করা জরুরি যেখানে অন্য কেউ কোনো আঘাত বা কষ্ট না পায়।

ইসলামের সুমহান বার্তাকে উত্তম চরিত্রের বিকাশ হিসেবে প্রকাশ করা যায়। মহানবী (সা.) নিজের নবুয়তি দায়িত্ব ও আগমনের মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেছেন, “আমাকে তো শুধু উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা বিধানের জন্যই প্রেরণ করা হয়েছে।” (আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদিস: ২৭৩) তিনি শুধু মুসলিমদের জন্য নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য এক অসীম রহমত হিসেবে এ ধরায় প্রেরিত হয়েছেন। কোরআনে বলা হয়েছে, “আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য শুধু রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি।” (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ১০৭)

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ নিজের ইবাদত বা একত্ববাদের আদেশের পরেই মা-বাবার সঙ্গে সুব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন। কোরআনে বলা হয়েছে, “আপনার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন যে তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করবে না এবং পিতা-মাতার সঙ্গে সৎব্যবহার করবে। তাদের একজন বা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হন, তবে তাদেরকে ‘উফ’ পর্যন্ত বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না; বরং তাদের সঙ্গে সম্মানসূচক নম্র কথা বলো।” (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ২৩) শৈশবে যখন সন্তানরা অসহায় ও দুর্বল ছিল, তখন মা-বাবাই নিজেদের সুখ বিসর্জন দিয়ে তাদের গড়ে তুলেছেন। সন্তানরা সামর্থ্যবান হলে তাদের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান ফিরিয়ে দেওয়া নৈতিক দায়িত্ব। মা-বাবাকে সন্তুষ্ট রাখা পরকালের অন্যতম সেরা পুণ্যের কাজ।

রাস্তাঘাটে বা সামাজিক মেলামেশায় বয়স্ক ব্যক্তিদের প্রতি বিনয়ী হওয়া উচিত। তাদের সঙ্গে হাঁটার সময় সামান্য পেছনে হাঁটা, দরজায় বা যানবাহনে প্রবেশের সময় তাদের আগে সুযোগ দেওয়া এবং তাদের উপস্থিতির সম্মান জানানোর শিক্ষা নবীজি (সা.) দিয়েছেন। বয়স্ক মানুষের অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞাকে কদর করা উচিত। তাদের সম্মান করা সম্পর্কে মহানবী (সা.) সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমাদের বড়দের সম্মান করে না, ছোটদের স্নেহ করে না এবং আমাদের আলেমদের উপযুক্ত মর্যাদা দেয় না, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৯১৯)

প্রতিদিন নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত, আমি কি অন্যদের সঙ্গে তেমন আচরণ করছি, যেমন আচরণ আমি নিজের জন্য আশা করি? একদিন সবাইকে বৃদ্ধ হতে হবে। আজ বয়স্কদের সঙ্গে যেমন আচরণ করা হবে, ভবিষ্যতে তরুণ প্রজন্মও তেমনই আচরণ করবে। সামাজিক মেলামেশায় হাসিমুখে কথা বলা, সুন্দর কথা বলা এবং সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা ইমানের অন্যতম সৌন্দর্য। মহানবী (সা.) বলেছেন, “আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে তাঁর কাছে সবচেয়ে প্রিয় ওই ব্যক্তি, যার চরিত্র বা আচরণ সবচেয়ে সুন্দর।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৫৫৯)

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...