আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের হিসাব, ইতিহাসে সাদ্দামের ভুলের প্রতিধ্বনি

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের হিসাব, ইতিহাসে সাদ্দামের ভুলের প্রতিধ্বনি
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের হিসাব, ইতিহাসে সাদ্দামের ভুলের প্রতিধ্বনি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ নিয়ে দুই থেকে চার সপ্তাহের অনুমান ভুল প্রমাণ হয়েছে, যুদ্ধ সাত মাস পেরিয়ে গেছে। অতীতে সাদ্দাম হোসেনও ইরান-ইরাক যুদ্ধে একই ধরনের ভুল করেছিলেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলমান ইরান যুদ্ধ নিয়ে একটি সময়সীমা নির্ধারণ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ইরান দুই থেকে চার সপ্তাহের বেশি টিকতে পারবে না। তবে যুদ্ধ এখন সাত মাস অতিক্রম করেছে এবং শান্তির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলোও ইরানের হামলার শিকার হচ্ছে। অতীতের ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়ও ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের হিসাবে একই ধরনের ভুল হয়েছিল।

১৯৮০ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ইরাকের প্রায় ১৯২টি যুদ্ধবিমান ইরানের আকাশজুড়ে তীব্র বিমান হামলা শুরু করে। এই হামলা ইরানের জন্য অপ্রত্যাশিত ছিল। সাদ্দাম হোসেন অতর্কিত হামলা চালিয়ে প্রতিপক্ষের কোমর ভেঙে দিতে চেয়েছিলেন, যাতে তার পদাতিক বাহিনী সীমান্ত পেরিয়ে প্রবেশ করলে কোনো প্রতিরোধের মুখে না পড়ে।

সাদ্দাম হোসেন হিসাব করেছিলেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল থাকায় তিনি দ্রুতই দেশটিকে কাবু করে ফেলতে পারবেন। ওই সময়ে ইরানের তুলনায় সামরিক শক্তিতে ইরাক অনেক এগিয়ে ছিল। তবে বাস্তবে যুদ্ধ তার হিসাব মতো এগোয়নি।

ইরান-ইরাক যুদ্ধ প্রায় আট বছর ধরে চলেছিল। এই যুদ্ধে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ নিহত হন। আধুনিক কালে দুই দেশের মধ্যে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী যুদ্ধ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান সবেমাত্র নিজেদের গুছিয়ে নিতে চেষ্টা করছিল। সে সময় দেশটিতে বিশৃঙ্খলা ও অবিশ্বাস বিরাজ করছিল এবং অর্থনীতিও বেহাল দশায় ছিল। এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই সাদ্দাম হোসেন হামলা করে নিজের প্রভাব বিস্তার করতে চেয়েছিলেন।

বিপ্লবের পরপরই ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছিল। পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন সাদ্দামের পক্ষেই ছিল। আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে পাহলভি রাজবংশের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে।

শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভি ১৯৭৯ সালের ১৬ জানুয়ারি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। এরপরই ইরানের নাম পরিবর্তন করে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান রাখা হয়। শাহকে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় দেওয়ায় তেহরানে মার্কিন দূতাবাসে বিপ্লবী জনতা ৫২ জন মার্কিন নাগরিককে ৪৪৪ দিন জিম্মি করে রাখে। এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর প্রথম দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ক্ষমতাধর পশ্চিমা দেশগুলোও সাদ্দামের পক্ষে অবস্থান নেয়, ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে ইরান বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সে সময়ে শুধু লিবিয়া ও সিরিয়া ইরানের পক্ষ নিয়েছিল। ইসলামি বিপ্লব ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব কমিয়ে দিয়েছিল এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ক্ষমতার দ্বন্দ্বে খোমেনি নিজের নেতৃত্ব সুসংহত করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন।

সামরিক বাহিনীর আনুগত্য নিশ্চিত করতে বহু সামরিক কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া, কারাগারে পাঠানো কিংবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। ইরানের এই আপাত দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে সাদ্দাম ইরাকের প্রভাব বাড়াতে ও বিদ্রোহ ঠেকাতে চেয়েছিলেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...