প্রযুক্তিইরান মাথা নত করবে না: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান
ইরান মাথা নত করবে না: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চাপ বা হুমকি দিলে ইরান কখনোই মাথা নত করবে না। তবে আলোচনার পথ খোলা রাখার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, নিষেধাজ্ঞা ও হুমকির কাছে ইরান কখনোই মাথা নত করবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ও সংকট নিরসনে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য ইরান প্রস্তুত বলেও তিনি উল্লেখ করেন। গতকাল বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট এসব কথা বলেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, নিষেধাজ্ঞা, চাপ ও হুমকি যত বাড়বে, ইরানের জনগণের প্রতিরোধও তত বাড়বে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা কখনো মাথা নত করব না, কখনোই হাঁটু গেড়ে বসব না।’
পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে আসে। এর এক দিন আগে জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে দেশটিকে ‘ধ্বংস’ করার হুমকি দিয়েছিলেন। পেজেশকিয়ান ওই বক্তব্যের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি প্রয়োগের নীতির সমালোচনা করেন।
তবে একই সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখার কথাও স্পষ্ট করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ইরান সংলাপ, কূটনীতি ও আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে শক্তি প্রয়োগের ভাষা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
যেকোনো চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি থাকতে হবে বলে পেজেশকিয়ান জানান। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নৌ চলাচলের অধিকারও নিশ্চিত করার দাবি তোলেন তিনি।
হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, একটি জলপথ থেকে অন্যরা সুবিধা নেবে, অথচ ইরান সেখানে চলাচলের সুযোগ পাবে না—এমন পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়। ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির অধিকার নিয়েও তিনি নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে চায় না; তবে শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রযুক্তির অধিকারও ছাড়বে না।
ভাষণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহতদের ছবি দেখান ইরানের প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে ইরানকে সন্ত্রাসবাদের জন্য দায়ী করার অভিযোগেরও তিনি সমালোচনা করেন। পেজেশকিয়ানের দাবি, ইরান নিজেই সন্ত্রাসবাদের শিকার।
এদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কাতারের মধ্যস্থতায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে। এই আলোচনায় যুদ্ধের অবসান, মার্কিন অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের জব্দ সম্পদ ছাড়ার মতো বিষয় নিয়ে ইরানের শর্ত তুলে ধরা হয়েছে বলে তেহরান জানিয়েছে।
মতামত (0)