ইউরোপে অভিবাসী আগমন কমলেও বাড়ছে প্রাণহানি: জাতিসংঘ সংস্থা
সম্পাদক২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ · 1 ঘণ্টা আগে
ইউরোপে অভিবাসী আগমন কমলেও বাড়ছে প্রাণহানি: জাতিসংঘ সংস্থা
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, চলতি বছর ইউরোপে সমুদ্রপথে অভিবাসী আগমন ৩৯ শতাংশ কমেছে, তবে বিপজ্জনক পথে মৃত্যু বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ।
চলতি বছরের শুরু থেকে ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশী ও শরণার্থীদের আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে ইউরোপে পাড়ি জমানোর বিপজ্জনক সমুদ্রপথে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের অভিবাসন নিরাপত্তা বিষয়ক অঙ্গসংগঠন আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এই বছর সমুদ্রপথে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী ও শরণার্থী ইউরোপে পৌঁছেছেন। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৯৮ হাজার ৪০ জন।
এক বছরে সমুদ্রপথে ইউরোপে অভিবাসী আগমন ৩৯ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে, চলতি বছর ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরের বিভিন্ন সমুদ্রপথে অন্তত ২ হাজার ২৯২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৯৯৯ জন। ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিকের রুটগুলো বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সমুদ্রপথগুলোর মধ্যে রয়েছে।
আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, নিরাপদে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে মানুষ এখনও উদ্বেগজনক হারে মারা যাচ্ছে এবং নিখোঁজ হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে যে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা ক্রমেই আরও ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা করছেন।
ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমন কমার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে ইতালিমুখী সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরীয় রুটে। এই পথে আগমন ৫৫ শতাংশ কমেছে। তবে ইউরোপের কয়েকটি দেশে সম্প্রতি অভিবাসন নীতি কঠোর করার সঙ্গে ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সামগ্রিক আগমন কমে যাওয়ার সরাসরি কোনো সম্পর্ক আইওএম এখনো প্রতিষ্ঠা করেনি।
লিবিয়ার কোস্টগার্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সমুদ্রে ১৭ হাজার ৬৭ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে আটক করে লিবিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুটে। এই পথ দিয়ে মূলত গ্রিসসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন তারা।
আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুটে মৃত্যুর সংখ্যা গত বছরের ২৮৪ থেকে বেড়ে চলতি বছরে ৪১৭ হয়েছে। এই পরিসংখ্যান গত ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যাচাই করা দুর্ঘটনা ও আগমনের ঘটনাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তবে আইওএম জানিয়েছে, অনেক নৌকাডুবি ও নিখোঁজের ঘটনা নথিভুক্ত না হওয়ায় প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা এর চেয়ে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপ আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জীবন বাঁচানো, চলমান মানুষদের সুরক্ষা দেওয়া, পাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের পথ তৈরি করতে আমাদের ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
আইওএম জানিয়েছে, সম্প্রতি ইউরোপের অংশীদারদের সঙ্গে তাদের আলোচনাগুলোতে পুরো অঞ্চলের জন্য একটি সমন্বিত পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উঠে এসেছে। সংস্থাটির মতে, সমুদ্রপথে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমন কমে গেলেও বিপজ্জনক যাত্রার কারণে মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে। ফলে শুধু আগমন কমানোর দিকে নজর না দিয়ে সমুদ্রপথে জীবন রক্ষা, মানবপাচার মোকাবিলা এবং নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
মতামত (0)